উত্তরার রাজলক্ষ্মী মার্কেট থেকে সহোদর জঙ্গি সদস্য গ্রেফতার

  

পিএনএস ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরায় রাজলক্ষ্মী মার্কেটে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির দুই সক্রিয় সহোদরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের এলিটফোর্স র‌্যাব।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আলম আনোয়ার আজিজ ওরফে অনু (৩৯) ও মো. আফছার আজিজ ওরফে অভি (৩৪)। মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানার দিদারুল আলমের ছেলে তারা।

র‌্যাবের দাবি, গ্রেফতার দুই সহোদরের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তৎকালীন জেএমবির প্রধান সারোয়ার জাহানসহ শুরা সদস্য তাসলিম, রিপনের।

গত ১৪ জুন রাতে গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও বন্দর থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দুটি মামলা রয়েছে।

র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান জানান, আনোয়ার আজিজ অনু ১৯৯৪ সালে রাজধানীর শুক্রবাদের নিউ মডেল বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি (বিজ্ঞান বিভাগ) ও ১৯৯৬ সালে ঢাকা সিটি কলেজ হতে এইচএসসি পাশ করেন। ২০০০ সালে ঢাকার তেজগাঁও কলেজ হতে ডিগ্রি পাশ করে এবং ২০০৫ সালে জিগাতলায় সি.আই.আই.টি অধীনে এমবিএ (হিউম্যান রির্সোচ ম্যানেজমেন্ট) সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আইটি ফার্ম, গার্মেন্টের চাকুরিসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। সর্বশেষ একটি মিষ্টির দোকানের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

অপর ভাই আফছার আজিজ অভি ২০০২ সালে শুক্রবাদ নিউ মডেল বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পাশের পর লেখাপড়া অসমাপ্ত রেখে এমব্রয়ডারীর ব্যবসা শুরু করেন। সর্বশেষ তিনি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রাইভেটকার চালাতেন।

র‌্যাব-১১ জানায়, আনোয়ার আজিজ গ্রেফতাকৃত মাসুদ আলমের মাধ্যমে ২০১২ সালে উগ্রবাদীতার প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে হানাফি থেকে সালাফি মতাদর্শে দীক্ষিত হন। এরপর জসিমউদ্দিন রাহমানীসহ বিভিন্ন উগ্রবাদী আলেমদের সংস্পর্শে আসেন।

র‌্যাব আরও জানিয়েছে ২০১৩ সালে গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্য মাসুদ তাকে অপর গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্য আবু ইউশা ইমনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আবু ইউশার মাধ্যমেই বায়াত নিয়ে মূলতঃ আনোয়ার আজিজ জেএমবিতে যোগ দেন। এরপর তিনি জেএমবির দাওয়াতি কাজে জড়িয়ে যান। আনোয়ার আজিজের দাবি তার মাধ্যমে ১০ থেকে ১২ জন জেএমবি সদস্য সংগঠনে যোগ দিয়েছে।

র‌্যাব জানায় আনোয়ার আজিজের মাধ্যমেই মূলতঃ অপর ভাই আফছার আজিজ অভি জেএমবিতে যোগ দেন এবং আবু ইউশার হাতে বায়াত ও দুই ভাই একত্রে সক্রিয়ভাবে জেএমবির দাওয়াতি কাজ শুরু করেন। এ কাজের পাশাপাশি ইমনের নির্দেশে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার জন্য নিজেরা রাজধানীর বিভিন্ন জিমনেশিয়ামে ব্যয়াম করা শুরু করেন।

২০১৫ সালে অনু-অভি নিজ বাসায় স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র একে-৪৭ দিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ নেয়। ইমন তাদেরকে এই অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেন। ২০১৫ সালের শেষ দিকে আবু ইউশা আনোয়ারের মেয়েকে বিয়ে করেন। এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা অনু-অভির বাসায় সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে তৎকালীন জেএমবির প্রধান সারোয়ার জাহানসহ শুরা সদস্য তাসলিম, রিপনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এরপর থেকে সংগঠনে অনু-অভির গুরুত্ব বেড়ে যায়। বিভিন্ন সময়ে জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ও আলোচনা অনু-অভির বাসায় সম্পন্ন হতো। অনু-অভি ইতোপূর্বে গ্রেফতারকৃত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবির বিভিন্ন স্তরের সক্রিয় সদস্য আবু ইউশা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ওরফে ইমন, আনোয়ার হোসেন, সাইফুল গনি চৌধুরী, ইমরান আহমেদ, মো. নবীন হোসেন রাব্বী, ওয়ালীউল্লাহ চিশতি ওরফে জনি ওরফে মোহাম্মদ, আল-আমীন ওরফে রাজিব ও মাসুদ আলমের সঙ্গে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে যাতায়াত করেছে এবং দাওয়াতি কাজ পরিচালনা ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছে বলেও স্বীকার করেছে।

বাবা-মা অনু-অভিকে জেএমবি থেকে ফেরানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অনু সর্বশেষ উত্তরা এলাকার জেএমবির দাওয়াতি শাখার প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech