যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ১৩

  08-06-2026 10:25AM


পিএনএস ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে মিসরে হামাসসহ বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর নেতাদের নিয়ে নতুন দফা আলোচনা শুরু হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের কাছে আল-মাওয়াসি এলাকা, গাজা সিটি ও দেইর আল-বালাহে এসব হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে বড় ধরনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও এর পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। ওই পরিকল্পনায় গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, কায়রোয় চলমান আলোচনায় হামাস প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারী মিসর, কাতার ও তুরস্ককে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়। আলোচনা কয়েক দিন ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সহিংসতা অব্যাহত

গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৯৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ৯০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একই সময়ে হামাসের হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।

এই সময়ে গাজার আবাসিক ভবন, বাজার, যানবাহন ও ক্যাফেতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের ঘর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নির্ধারিত ৫৩ শতাংশের চেয়ে বেশি। এসব এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা এবং অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযোগও রয়েছে।

গত ২৮ মে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনাবাহিনীকে গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিস্তারের নির্দেশ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে হামাসের হাতে থাকা সব জিম্মিকে মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগার থেকে কিছু ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। দ্বিতীয় ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্ধারিত থাকলেও তা আটকে আছে।

হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান জানিয়েছেন, সংগঠনটি এখনই অস্ত্র সমর্পণ করবে না। অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে গাজায় চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৯৭১ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন ও কয়েকজন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এ পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যার শামিল’ বলে উল্লেখ করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা।


পিএনএস/এমএইউ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন