ফিরে দেখা ’৭১-রণাঙ্গনের দিন গুলি (৭)

  06-12-2014 06:17PM

পিএনএস ( কামাল পাশা দোজা ) : মহান বিজয়ের মাসের সপ্তম দিন।আক্ষরিক অর্থেই কাংখিত বিজয় যেন দোর-গড়ায় কড়া নাড়ছে । দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ব সত্যিই যেন সমাপ্তির পথে। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বিভিন্ন রণাঙ্গনে মুক্তি যোদ্বারা চরম সফলতার পরিচয় দিচ্ছিল।

৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালে এই দিনে চুয়াডাঙ্গা শত্রু মুক্ত হয়।চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার আ: শুকুর বাঙালী জানান, ৬ ডিসেম্বর পাকহানাদার বাহিনী মেহেরপুর থেকে ২৮ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে চুয়াডাঙ্গার দিকে আসে। ওইদিন সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা মাথাভাঙ্গা নদীর ব্রিজটি পাকহানাদার বাহিনী বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা ৮ নম্বর সেক্টরের অন্তর্গত ছিল। ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ মুনসুরের নেতৃত্ব মুক্তিযোদ্ধারা ৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। প্রতিরোধের মুখে পাকহানাদার বাহিনী ঐদিন রাতে চুয়াডাঙ্গা থেকে আলমডাঙ্গা হয়ে কুষ্টিয়া অভিমুখে চলে যায়। সম্পর্ণ শক্রমুক্ত হয় ৮ নম্বর সেক্টেরে চুয়াডাঙ্গা। তারপর থেকে প্রতিবছর ৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা মুক্তদিবস পালন করা হয়।




চুয়াডাঙ্গা শত্রুমুক্ত হওয়ার পর মোস্তফা আনোয়ারকে মহকুমা প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়ে এখানে বেসামরিক প্রশাসন চালু করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পেরিয়ে গেছে ৪৩ বছর। অথচ, মুক্তিযুদ্ধের বহুল আলোচিত চুয়াডাঙ্গায় কোনো স্মৃতিফলক নেই। ১৯৯৪ সালে শহীদ হাসান চত্বরে একটি স্মৃতিফলক নির্মিত হলেও তা অবৈধ স্থাপনা হিসেবে ২০০১ সালে ভেঙে ফেলা হয়।

চুয়াডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার মো: আবু হোসেন জানান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে পতাকা উত্তোলন, বিজয় র‌্যালি ও শহীদ হাসান চত্বরের আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান স্বাধীনতার ৪৩ বছরেও স্থায়ী ভাবে নির্মাণ হয়নি মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে স্মৃতিফলক ।




১৯৭১ সালরে ৬ ডসিম্বের। রণাঙ্গনে পাক হানাদারদরে পরাজয়রে শষে পরেকে ঠুকে দয়ে বন্ধুরাষ্ট্র ভারত। ইতহিাসরে চাকাই পাল্টে যতেে শুরু কর।ে একাত্তররে রক্তক্ষরা এই দনি স্বাধীন রাষ্ট্র হসিবেে বাংলাদশেকে আনুষ্ঠানকিভাবে স্বীকৃতি দয়ে ভারত। ভারতরে স্বীকৃতি বাংলাদশেরে মুক্তরি লড়াইয়রে গন্তব্য আরও নশ্চিতি করে দয়ে। রণযুদ্ধরে পাশাপাশি কূটনতৈকি যুদ্ধওে পরাজতি হতে থাকে হানাদাররা।

দু’দনি আগে ৪ ডসিম্বেরই মুজবিনগর সরকাররে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সয়ৈদ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দনি আহমদে যুগ্ম দস্তখতে ভারতরে প্রধানমন্ত্রী ইন্দরিা গান্ধীর কাছে বাংলাদশেকে স্বীকৃতি দয়োর অনুরোধ করনে। ইন্দরিা গান্ধী সরকার ১৯৭১ সালরে এই দনিে বাংলাদশেকে স্বীকৃতি দয়োর সদ্ধিান্ত নয়ে। ইন্দরিা গান্ধী ফরিতি চঠিতিে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দনি আহমদেকে বলনে, “পত্র পাওয়ার পর আপনাদরে সাফল্যজনক নেতৃত্বে পরচিালতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদশে সরকারকে স্বীকৃতদিান সংক্রান্ত আপনাদরে অনুরোধ ভারত সরকার পুনরায় ববিচেনা করছে।”




ভারতরে প্রধানমন্ত্রী ইন্দরিা গান্ধী তাঁর চঠিতিে বাংলাদশেকে স্বীকৃতি প্রদানরে ঘোষণা দয়িে লখিনে- “আমি আনন্দরে সঙ্গে জানাচ্ছি য, র্বতমান যে পরস্থিতিরি সৃষ্টি হয়ছেে তার প্রক্ষোপটে ভারত সরকার আপনাদরে স্বীকৃতদিানরে সদ্ধিান্ত নয়িছে। ...পথে যতই র্দীঘ হোক না কনে এবং ভবষ্যিতে আমাদরে জনসাধারণরে যতই ত্যাগ স্বীকার করতে হোক না কনে, বজিয়মালা আমরা বরণ করবই।”

আর স্বাধীন দশে হসিাবে বাংলাদশেকে ভারতরে স্বীকৃতি আর্ন্তজাতকি অঙ্গনওে ছলি তাৎর্পযর্পূণ। নজিদেরে পরাজয় ঠকোতে পাক হানাদার বাহনিী যুদ্ধরে মাঠে এবং পাকস্তিান সরকার কূটনতৈকি র্পযায়ে মরণকামড় দচ্ছিলি। কন্তিু যুদ্ধরে মাঠরে মতো কূটনতৈকি র্পযায়ওে একরে পর এক পরাজয় ঘরিে ফলেে পাক জান্তাদরে। অন্যদকিে সম্মুখযুদ্ধে একরে পর এক জলো জয় করে মত্রি বাহনিী ও মুক্তযিোদ্ধারা ঢাকা জয় করতে ক্রমশঃ এগয়িে আসতে শুরু কর। স্বাধীন র্সাবভৌম বাংলাদশে হসিাবে বশ্বিরে মানচত্রিে স্থান করে নতিে প্রহর গুনতে তাকে বাংলার মুক্তপিাগল দামাল ছলেরো।




ভারতরে স্বীকৃতি মুক্তসিনোদরে মনোবল বহুগুণে বাড়য়িে দয়ে। নতুন রাষ্ট্র তথা জন্মভূমি আদায়রে অভলিাষে শহর আর গ্রামরে বাড়ঘির, মুক্তসিনো ক্যাম্পগুলোতে উল্লাস বইয়ে যায়। রক্তাক্ত ও নষ্ঠিুর একটি যুদ্ধরে সূচনাকারী পাক হানাদারদরে বমিান- তৎপরতা সর্ম্পূণ বধ্বিস্ত হয়ে পড়। বাংলাদশে-ভারত যৌথ কমান্ডরে কাছে স্বাধীন হয় বাংলার আকাশ।

বাংলাদশেে পাক বমিানবাহনিীর প্রায় সব বমিান এবং বমিানবন্দরই তখন বধ্বিস্ত। গোটা দনি ভারতীয় জঙ্গী বমিানগুলো অবাধে আকাশে উড়ে পাক সামরকি ঘাঁটগিুলোতে প্রচ- আক্রমণ চালাল। ভারতীয় বমিানবাহনিীর হসিবে মত, ১২ ঘণ্টায় ২৩০টি আক্রমণ চালানো হয় পাক ঘাঁটগিুলোত। তজেগাঁও ও র্কুমটিোলা বমিান ঘাঁটতিে ৫০ টনরে মতো বোমা ফলো হয়। তীব্র বমিান আক্রমণে বড় রাস্তা দয়িে পাক সেনাবাহিনীর যাতায়াতও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

বলতে গলেে পুরো আকাশ ভারতীয়, মুক্তযিোদ্ধা ও বাংলাদশে সনোবাহনিীর দখলে চলে আস। শুধু আকাশইে নয়, স্থলওে মুক্তযিোদ্ধা ও মত্রিবাহনিী ঢাকার দকিে এগয়িে চলে বীরর্দপ। একে একে জলোগুলো শত্রুমুক্ত হচ্ছ, উড়ছে রক্তস্নাত মানচত্রি খচতি স্বাধীন বাংলাদশেরে পতাকা। চলছে জলোয় জলোয় বজিয় উল্লাস, আর নতমস্তকে হানাদারদরে আত্মসর্মপণরে চত্রি।


লেখক : সাংবাদিক,কলামিষ্ট

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন