এইডসের ঝুঁকি বাড়ছে খুলনা অঞ্চলে

  

পিএনএস ডেস্ক : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আট জেলায় এইডসের ভয়াবহতা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থল ও সমুদ্র বন্দর এলাকায় পতিতালয়ে অনিরাপদ যৌন মিলন, সমকামিতা, প্রবাসী, মায়ের গর্ভ থেকে আসা শিশু, নামি-দামি হোটেলে যৌন ব্যবসা, সিরিঞ্জের মাধ্যমে বারবার সুচের ব্যবহারের কারণে এবং কনডম ব্যবহারে অনিহা এইডসের ভয়াবহতা বেড়ে যাচ্ছে।

২০১৫ সালে ২৫ জন রোগী নতুন করে আক্রান্ত হয়। ২০১৬ সালে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। ওয়ার্ল্ড ভিশন নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এক জরিপে উল্লেখ করা হয়, ভারতীয় সীমান্ত জোনে অবস্থানের কারণে খুলনা অঞ্চলে এইডসের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কলেজ ছাত্রদের মধ্যে বিয়ে বহির্ভূত যৌন মিলনের হার ২৯ শতাংশ। মংলা সমুদ্র বন্দর এলাকার বানিশান্তা নিষিদ্ধ পল্লী, বাগেরহাট ও যশোরের পতিতালয় এবং খুলনা মহানগরীর নামি-দামি হোটেলসহ ভাসমান অবস্থায় থাকা যৌন কর্মীর সংখ্যা চার হাজার। নিষিদ্ধ পল্লীর যৌন কর্মীদের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা হয় না। এ অঞ্চলে অবৈধ যৌনাচারে লিপ্তদের মধ্যে ২৫ শতাংশের বেশি কনডম ব্যবহার করতে আগ্রহ দেখায় না। বেনাপোল স্থল বন্দর ও ভোমরা শুল্ক স্টেশন দিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাক চালকরা অবসর মুহূর্তে পতিতাপল্লী ও ভাসমান যৌন কর্মীদের শয্যা সঙ্গী হয়। সৌদি আরব ও ভারত থেকে আসা কয়েকজন প্রবাসী এ দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে।

এইডস আক্রান্ত রোগীরা খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মাগুরা, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরের।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মুক্ত আকাশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গেল বছর ১৬ জন পুরুষ, আট জন মহিলা ও একজন শিশু এবং ২০১৬ সালে আক্রান্তদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ, ২১ জন মহিলা এবং ১০ জন শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়। গেল বছর দুইজন পুরুষ, তিনজন মহিলা এবং এ বছর চারজন পুরুষ ও দুইজন নারীর মৃত্যু হয়।
এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের জরিপ অনুযায়ী, ২০০৪-২০১৬ পর্যন্ত ওই আট জেলায় ২১৩ জন এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং মারা গেছে ৪৭ জন।

স্বেচ্ছাবেসী সংগঠন মুক্ত আকাশের কো-অর্ডিনেটর রেহানা বেগম জানান, এইডসের ভয়াবহতা রোধে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। সমকামিতায় নিরুৎসাহিত এবং পতিতাপল্ল¬ীতে কনডম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দুর্জয় নারী সংঘ নামক এনজিওর অনুষ্ঠান সংগঠক কাজল কুমার দাস জানিয়েছেন, যৌন কর্মীদের কারণে এ অঞ্চলে এইডস ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। খুলনা শহর ও মংলা এলাকায় বারশ জন যৌনকর্মী রয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিকেএস সুশীলন, মাসাসসহ ১৯টি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এইডস প্রতিরোধে গণসচেতনতায় অংশ নিয়েছে। সদ্য সাবেক খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মো. ইয়াসিন আলী সরদার জানান, অনিরাপদ যৌন মিলন, নামি-দামি হোটেলে যৌন ব্যবসা, ইটের ভাটার শ্রমিকরা এবং সিরিঞ্জের সুচ বারবার ব্যবহারের ফলে এইডসের ভয়াবহতা বেড়েছে।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech