অপারেশনের চিকিৎসকের অবহেলা; প্রসূতির মৃত্যু - মফস্বল - Premier News Syndicate Limited (PNS)

অপারেশনের চিকিৎসকের অবহেলা; প্রসূতির মৃত্যু

  

পিএনএস ডেস্ক: দিনাজপুরে একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রচুর রক্তক্ষরণে হুসনেয়ারা বেগম (২৭) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে দায়ী করছেন অন্য চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনরা। বুধবার ভোরে শহরের বালুবাড়ী পশু হাসপাতাল মোড়ে অবস্থিত আল মদিনা নার্সিং হোমে ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়।

নিহত হুসনেয়ারা বেগম চিরিরবন্দর উপজেলার ৮ নং সাইতারা ইউনিয়নের কালিতলা গ্রামের ইয়াকুব আলীর স্ত্রী।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, হুসনেয়ারা বেগম তিন কন্যা সন্তানের জননী। ছেলে সন্তানের আশায় চতুর্থ সন্তান নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্বামী-স্ত্রী। গর্ভবতী হওয়ার পর আলট্রাসনোগ্রাফি করে জানতে পারেন পুত্র সন্তানের মা হবেন হুসনেয়ারা বেগম। পরিবারে বিরাজ করছিল ছেলে সন্তানের আগমনের আনন্দ। প্রথম তিন সন্তান স্বাভাবিক ভাবেই জন্ম নেয়। কিন্তু এবার চিকিৎসক জানান সিজার করতে হবে।

এ খবর পেয়ে তাদের কাছে পৌঁছে যায় আল মদিনা নাসিং হোমের চিরিরবন্দর উপজেলার প্যারামেডিকেল পড়ুয়া দালাল মুশফিকুর রহমান। সে জানায় আল মদিনা নাসিং হোমে ডা. খাদিজা নাহিদ ইভার কাছে সিজারিয়ান অপারেশন করলে কম খরচ হবে। এ কথা শুনে দালালের মাধ্যমে গত মঙ্গলবার দুপুরে এসে আল মদিনা নাসিং হোমে সাড়ে ৮ হাজার টাকা চুক্তিতে সিজারের জন্য ভর্তি হন হুসনেয়ারা বেগম।

হুসনেয়ারা বেগমের ভাই নাজমুল ইসলাম জনান, বিকেলে হুসনেয়ারার সিজার করেন ডা. খাদিজা নাহিদ ইভা। হুসনেয়ারা পুত্র সন্তান জন্ম দেন। সন্ধ্যায় ইফতারির সময় রোগীর লোকজনকে জানানো হয় রোগীর রক্তপাত বন্ধ হচ্ছে না । রক্ত লাগবে। এ কথা শুনে স্বজনরা দুই ব্যাগ রক্ত দেয়। রাত ৯টার সময় জানানো হয় আরও এক ব্যাগ রক্ত লাগবে।

এরপর রাত সাড়ে ১০ টায় রোগীকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের গাইনী ওয়ার্ডের ১ নং ইউনিটের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. জাহানারা বেগম মুন্নির অধীনে ভর্তি করে। এরপর আর রক্ত নেয়া হয়নি। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে আইসিউতে নেয়া হয়। এরপর আর রোগীর কোনো তথ্য স্বজনদের জানানো হয়নি। সারারাত কেটে যাওয়ার পর বুধবার ভোরে জানানো হয় হুসনেয়ারা বেগম মারা গেছে।

নাজমুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, হুসনেয়ারার আসলে কী হয়েছিল তার কিছুই জানতে পারিনি আমরা। সিজার করার সময় তার অন্য কোনো অঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছিল কি-না, সে ভোরে মারা গেছে না-কি ক্লিনিক থেকেই মৃত অবস্থায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাতেও সংশয় রয়েছে। কারণ পরে এক ব্যাগ রক্তের কথা বলা হলেও তা লাগবে না বলে রাতের বেলা জানানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে সকাল ৯টার সময় আল মদিনা নাসিং হোমে গিয়ে ক্লিনিক বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আবারও বিকে ৪টার সময় গিয়েও ক্লিনিক বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক চেষ্টা করেও ক্লিনিকের কোনো কর্মকর্তা কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, ডা. খাদিজা নাহিদ ইভা রংপুরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের চিকিৎসক। তিনি গত মঙ্গলবার রাতে রোগীকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের রেফার করে দিয়ে রংপুরে চলে যান। এরপর আর কেউ তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি।

প্রসূতির মৃত্যুর কারণ জানতে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের ১ নং ইউনিটের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. জাহানারা বেগম মুন্নির সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্লাসেন্টিয়া প্রিভিয়ার (জরায়ুর সঙ্গে ফুল জড়িয়ে যাওয়া) কারণে রক্ষক্ষরণ হওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রোগীকে অনেক পরে পাওয়ায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সময় পাওয়া গেলে জরায়ু কেটে ফেলে রোগীকে বাঁচানো যেত।

এদিকে নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, অনেক সিনিয়র চিকিৎসক প্লাসেন্টিয়া প্রিভিয়ার রোগীদের সিজারিয়ান করার সাহস রাখে না। কিন্তু ডা. খাদিজা নাহিদ ইভা কীভাবে সাহস পেল? তার এ এই রোগীর সিজার করা ঠিক হয়নি।

পিএনএস/হাফিজুল ইসলাম

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech