প্রেমিকার নানা বাড়িতে ডেকে নিয়ে কলেজছাত্রকে হত্যা!

  

পিএনএস ডেস্ক : লক্ষ্মীপুরে প্রেম সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. জাবেদ হোসেন (২০) নামের এক কলেজছাত্রকে ফোনে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নিহতের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি নিহতের স্বজনদের। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার বিজয়নগর গ্রামে প্রেমিকার নানার বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত কলেজছাত্র জাবেদ উপজলোর উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের হাসন্দি গ্রামের শরীফ উল্যার ছেলে। তিনি লক্ষ্মীপুর দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পূর্ব হাসন্দি গ্রামের মো. সেলিমের মেয়ের সঙ্গে একই ইউনিয়নের হাসন্দি গ্রামের কলেজছাত্র জাবেদের দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয় মেয়ের পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে দুজনই সিদ্ধান্ত নেয় পালিয়ে বিয়ে করার।

ঘটনার দিন সকালে বিষয়টি টের পেয়ে মেয়ের ভাই ফরহাদ, রুবেল, লিটনসহ কয়েকজন কৌশলে ফোনে কলেজছাত্র জাবেদকে প্রেমিকার নানার বাড়িতে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। একপর্যায়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে লাশটি ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে দুপুরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত কলেজছাত্রের বাবা শরীফ উল্যা জানান, প্রেম সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

এদিকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়ে অস্বীকার করে মেয়েটির খালা জানান, পালিয়ে যাওয়ার জন্য দুজন বিজয় নগরে মেয়ের নানার বাড়িতে একত্রিত হয়। কিন্তু মেয়ে পালাতে রাজি না হওয়ায় ক্ষোভের কারণে ঘরের দরজা লাগিয়ে ওড়না দিয়ে আত্মহত্যা করে কলেজছাত্র জাবেদ। ঘটনার সঙ্গে তারা কেউই জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোছলেহ উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে হত্যা না আত্মহত্যা, বিষয়টি সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পিএনএস-জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন