চাঁদা দাবির অভিযোগে গাজীপুরে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

  03-07-2026 11:20AM


পিএনএস ডেস্ক: গাজীপুরের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বুলুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অস্ত্র প্রদর্শন ও মোটরসাইকেল মহড়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হয়েছে বলে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বেপারী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, মো. কামাল হোসেন বুলুর বিরুদ্ধে দলীয় নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ এবং দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রেক্ষাপটে তাকে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের পদসহ দলীয় সব ধরনের সাধারণ সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত ২ জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় নীতি-আদর্শ পরিপন্থি এবং সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন ও সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাহ উদ্দিনের নির্দেশনায় বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

এর আগে, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অস্ত্র প্রদর্শন ও মোটরসাইকেল মহড়ার ঘটনায় ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান জামান বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা করেন। এতে বিএনপি ও যুবদলের নেতাসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরো ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিসিক শিল্পাঞ্চলে ঝুট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন নুরুজ্জামান জামান। গত ২৭ জুন টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মন্ডল, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বুলু এবং ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মো. খালেক তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে, পরদিন ২৮ জুন অভিযুক্তদের নেতৃত্বে শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে এলাকায় অস্ত্রসহ মহড়া দেওয়া হয়।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, মহড়ার সময় কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীদের ঝুট বিক্রি না করার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়।

ঘটনার ভিডিও ও স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শিল্পাঞ্চলের প্রধান সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন এবং বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলের বহর দেখে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান শুরু করে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় প্রথম দফায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার দিবাগত রাতে আরো আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


পিএনএস/মোআ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন