ফরিদপুরে একসঙ্গে ৫ সন্তানের জন্ম, ৪ নবজাতকের মৃত্যু

  03-07-2026 10:42AM


পিএনএস ডেস্ক: ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ নবজাতকের জন্ম দিয়েছেন এক মা। তবে জন্মের পর পাঁচ নবজাতকের মধ্যে চারজন মারা গেছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী রেজিস্ট্রার ডাক্তার শিপ্রা ব্যানার্জি এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে প্রসববেদনা শুরু হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিটের মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাঁচটি শিশুর জন্ম হয়। নবজাতকদের মধ্যে তিন ছেলে ও দুই মেয়ে ছিল। বর্তমানে একটি ছেলে শিশু চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

জানা গেছে, শিশুগুলোর বাবার নাম মাহামুদুল হাসান ডলার (৩০)। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সিঙ্গাপুরে কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেড় বছর আগে তার সঙ্গে একই উপজেলার বড় কাজুলী গ্রামের চাঁদনী বেগমের (২২) বিয়ে হয়।

গর্ভধারণের পর চিকিৎসা পরীক্ষায় জানা যায়, চাঁদনীর গর্ভে একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান রয়েছে। বিষয়টি পরিবারে আনন্দের সৃষ্টি করলেও অকাল প্রসবের কারণে সেই আনন্দ দ্রুতই বিষাদে পরিণত হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রথম সন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তী ৩০ মিনিটের মধ্যে আরও চারটি শিশুর জন্ম হয়।

লেবার ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স মিনতি সরকার জানান, শিশুগুলো সাত মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই জন্মগ্রহণ করেছে। অস্ত্রোপচার ছাড়াই স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে এবং প্রতিটি শিশুর ওজন ছিল মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মধ্যে।

নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসক প্রীতিরাজ পাল চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে আনার পর পাঁচটি বাচ্চাই জীবিত ছিল। তবে ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের নবজাতক অত্যন্ত কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী (এক্সট্রিমলি লো বার্থ ওয়েট) শিশু শ্রেণিতে পড়ে। এ ধরনের শিশু সাধারণত অনেক আগে (প্রায় ২৪–২৬ সপ্তাহে) জন্মায় এবং তাদের নিবিড় নবজাতক পরিচর্যা (NICU) প্রয়োজন হয়। কিন্তু মেডিকেলে পর্যাপ্ত নিবিড় নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্র না থাকায় তাদের ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের স্থানান্তর করা হয়নি।


পিএনএস/মোআ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন