জাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ, আহত ৩০

  

পিএনএস ডেস্ক : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা নিয়ে স্থানীয় তরুণদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালান স্থানীয় কয়েকজন তরুণ। হামলার পরই তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এখনো সংঘর্ষ চলছে। সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন একাধিক শিক্ষার্থী।

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যদিও দেশের সকল কার্যক্রম চলছে স্বাভাবিক নিয়মে। শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দীর্ঘমেয়াদী সেশনজটে পড়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরাও। তাই অবিলম্বে হল খুলে দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম সচল করার দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে সরকারের নির্দেশ ছাড়া এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীরা এ সংক্রান্ত একটি ফেসবুক গ্রুপ (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খোলা চাই) খুলে আন্দোলনের ডাক দিয়ে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। সেখান থেকে ১ মার্চ আবাসিক হল খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম জানানো হবে। দাবি আদায় না হলে প্রয়োজনে সর্বাত্মক অবরোধসহ আরো নানাবিধ কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাথীদের একটি পক্ষ ১মার্চ থেকে হলে অবস্থান করারও হুশিয়ারি দিয়েছেন। এই গ্রুপে ইতোমধ্যেই তিন হাজারের অধিক শিক্ষার্থী যোগ দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের অনলাইন ক্লাস ঢিলেঢালাভাবে চললেও তৃতীয় ও স্নাতকোত্তর পর্বের চূড়ান্ত পরীক্ষা ঝুলে রয়েছে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষা অনলাইনে গ্রহণ করে প্রশাসন। যদিও বেশ কিছু বিভাগ চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল দিতে গড়িমসি করছে। এ ছাড়া অন্যান্য বর্ষের বিষয়ে কোনো আগ্রহ দেখায়নি বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ।

পরীক্ষার দাবিতে তৃতীয় ও স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেওয়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকলেও টিউশন থাকায় শিক্ষার্থীদের একটি বিশাল অংশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশেপাশের এলাকাগুলোতে অবস্থান করছেন। যারা এতোদিন বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তারাও এসব এলাকায় আসতে শুরু করেছেন।

ফলে শিক্ষার্থীদেরকে উচ্চমূল্যের খাবারসহ অতিরিক্ত ব্যয় হিসেবে বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল বহন করতে হচ্ছে। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে চরম আবাসিক সংকট এবং বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয়দের ঝামেলার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৬ থেকে ২২ জুনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা স্ব-শরীরে গ্রহণ করা হবে। এ সিদ্ধান্তেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন