পিএনএস ডেস্ক: কিশোরী-কিশোরীর শারীরিক সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেওয়ায় খুন হয়েছে শিশু আদিব আহনাফ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আরএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
জানা যায়, গত ১ মার্চ রাতে আদিব আহনাফ তারাবির নামাজ পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে বিল ধরমপুর কৈচাপুকুর এলাকার একটি ঘাস ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। নিহতের গলায় বেল্ট প্যাঁচানো ছিল। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছিল।
সোমবার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে গ্রেপ্তার কিশোর জানিয়েছে, প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ক্ষোভ থেকে আদিবকে হত্যা করে সে।
স্বীকারোক্তিতে অভিযুক্ত কিশোর জানায়, এক মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি আদিব মেয়েটির মাকে জানিয়ে দেয়। পরে মেয়েটির মা বিষয়টি ওই কিশোরের মাকে জানান। তখন ওই কিশোর মায়ের কাছে মারধরের শিকার হয়। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই সে আদিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনাটি শুরু থেকেই ছায়াতদন্ত করছিল ডিবি পুলিশ। পরে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ডিবি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও প্রতিশোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। রবিবার ঘটনায় জড়িত ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার দিন আদিব তারাবির নামাজ পড়তে বের হলে অভিযুক্ত কিশোর তাকে কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে তার মাথায় আঘাত করে এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। সবকিছু নিশ্চিত হয়েই ওই কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পিএনএস/এমএইউ
কিশোরী-কিশোরীর শারীরিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় শিশু আদিবকে হত্যা : পুলিশ
24-06-2026 01:12PM

