পিএনএস ( কামাল পাশা দোজা ) : মহান বিজয়ের মাসের পঞ্চম দিন। ৫ ডিসেম্বরে হঠাৎ করেই যেন মুক্তি যুদ্ব নতুন মোড় নেয়। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে অকুতোভয় জানবাজ মুক্তিযোদ্বারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক জায়গা মুক্ত করতে সক্ষম হয়। মূলত: মুক্তিযোদ্বাদের গেরিলা লড়াইয়ের সুচতুর কৌশলের কাছে পাক হানাদাররা অনেকটাই পর্যুদ্স্ত হয়ে পড়ে। তারপর পরাজয় আঁচ করতে পেরে পাক হানাদাররা পিছু হটে নিকটবর্তী জেলা শহর গুলিতে জমায়েত হতে শুরু করে । তারা কেবলমাত্র পিছুই হটেনি পিছু হটার সময় তারা ব্রীজ,কালভার্ট এবং গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা ধ্বংস করে ফেলে। এমনিতরো অবস্থায় গোটা জাতি যখন মুক্তির নেশায় পাগলপ্রায় ঠিক তখনি পাক-ভারত যুদ্ব, মুক্তিযুদ্বের সেই চিরচেনা প্রেক্ষিতকেই যেন পাল্টে দেয়।
পাকিস্তান ১৯৭১ সালের ৫ ািডসেম্বর ভারতের বিরুদ্বে আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করে। আগের রাতে ভারতীয় বিমানবাহিনী বাংলাদেশে আক্রমণের পর ৪ ডিসেম্বর ভারতীয় স্থলবাহিনীও বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। নভেম্বর মাস থেকে ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশ ভূখন্ডে পাকিস্তানী বাহিনীর ওপর আক্রমণ পরিচালনা করে এলেও ডিসেম্বরের ৪ তারিখ থেকেই মূলত তাদের স্থলবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে সব দিক দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আট মাস ধরে মুক্তিযোদ্ধারা সাধারণ মানুষের সহায়তায় জীবনবাজি রেখে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদে যে সশস্ত্র লড়াই করে আসছিল, তা একটি চূড়ান্ত পরিণতির দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে।
অন্য দিকে ভারত ও পাকিস্তান সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এ যুদ্ধ আরো বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে। কারণ এক দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তখন পাকিস্তানের পক্ষে আর সোভিয়েত রাশিয়া ভারতের পক্ষে। ফলে বাংলাদেশকে নিয়ে গোটা উপমহাদেশে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তখন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার জন্য মার্কিন পক্ষ থেকে ভারতকে দায়ী করা হয়।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে ক্ষমতা প্রদানের প্রস্তাব উত্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র। ইতালি, জাপান, বেলজিয়াম যুদ্ধবিরতির খসড়া উপস্থাপন করে। নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ব্যাপক পরিসরে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করা হয়। এদিকে রংপুর জেলার ফুলছড়ি ঘাটে হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্বাদের মুখোমুখি তুমুল সংঘর্ষ হয়। কোম্পানী কমান্ডার রোস্তম আলীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্বারা পাক সেনাদের ঝঁপিয়ে পড়ে। লড়াইয়ের এক পর্যায়ে শাহাদত বরন করে সাঘাটার বীর সন্তান আফজাল ।
লেখক,সাংবাদিক,কলামিষ্ট
ফিরে দেখা ’৭১- রনাঙ্গনের দিন গুলি (৫)
04-12-2014 07:12PM

