এবারের বিপিএলের ‌‘অবাস্তব’ নিয়ম এবং অন্যান্য আলোচিত ইস্যু

  

পিএনএস ডেস্ক : "যত দিন যায় তত অভিজ্ঞতা হয় একটা জিনিস আরো ভালো হওয়ার কথা কিন্তু বিপিএলে দেখছি উল্টোটা। মোট কথা ভালো লাগেনি দর্শক হিসেবে।"

চলমান বঙ্গবন্ধু বিপিএল নিয়ে এই ছিলো এক কথায় ময়মনসিংহের ক্রিকেট ভক্ত তাবাসসুম ইকবালের মূল্যায়ন।

অথচ ক্রিকেটারদের আন্দোলন আর সুপারস্টার সাকিবের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রেক্ষাপটে গতবছরের শেষ ভাগে শুরু হওয়া বিএপিএল নিয়ে আগ্রহ ছিল অনেকের মধ্যেই।

কিন্তু ঝাঁ চকচকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা ফুরোতে না ফুরোতেই নতুন আলোচনা শুরু হলো খেলার মাঠের দর্শকশূণ্যতা নিয়ে।

এর মধ্যে চট্টগ্রামে যখন সম্প্রচারকদের একটি ড্রোন হারিয়ে গেলো আকাশ থেকেই, তখন সেটা নিয়েই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কদিন ধরে চললো তুমুল হাস্যরস।

এরপর মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নানা সময় আলোচনার কেন্দ্রে আসেন, ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দলে খেলা চালিয়ে যাবেন কি যাবেন না সে বিষয়ে আলোচনায়।

শেষ পর্যন্ত মাশরাফীর '১৪' সেলাই হাতে নিয়ে খেলতে নামার পক্ষে ও বিপক্ষে বিতর্কও দেখা যায়।

এবারের বিপিএলের অন্যতম বিষয় ছিল ফ্র্যাঞ্জাইজি ছাড়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট, যেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরই পরিচালকরা বিভিন্ন দলের দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামেন।

বিসিবির পরিচালক জালাল ইউনুস আগেই বলেন, বিপিএলের এই আসরে লাভক্ষতির কোনো হিসেবই করা হবে না।

কিন্তু মাঠের ক্রিকেট দিয়ে দর্শকদের মনের খোরাক মেটানোর একটা ব্যাপার থেকেই যায়।

কিন্তু তাবাসসুম ইকবাল বলছেন, "কিছু কিছু ম্যাচে উত্তেজনা ছিল, যেমন চট্টগ্রামের মাটিতে কিছু ম্যাচ। এছাড়া আমি তেমন সুন্দর ক্রিকেট দেখিনি।"

তার চোখে এবারের বিপিএলে ধারাভাষ্যকাররা মানসম্মত ছিলেন না, তাই টেলিভিশনে ক্রিকেট দেখে তিনি তেমন মজা পাননি।

লেগ স্পিনার ও পেস বোলার
বিপিএল শুরুর আগে এই টুর্নামেন্টের গভর্নিং কাউন্সিল জানায়, এই টুর্নামেন্টে প্রতি দলে একজন লেগস্পিনার ও একজন দ্রুতগতির পেস বোলার নেয়া ও তাদের চার ওভার বল করানো বাধ্যতামূলক।

বিপিএল চেয়ারম্যান শেখ সোহেল টুর্নামেন্ট শুরুর আগে জানান, বিপিএলে একজন লেগস্পিনার খেলাতেই হবে এবং তাকে দিয়ে চার ওভার বল করাতে হবে।

কিন্তু পরবর্তীতে তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে এবং কর্তৃপক্ষ বলেন এটা একটা গাইডলাইন ছিল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গেম ডেভেলপমেন্টের সাবেক ন্যাশনাল ম্যানেজার নাজমুল আবেদীন ফাহিম এই পুরো আইডিয়াটিতে 'অবাস্তব' বলেন।

"শুরুতে কিছুটা কনফিউশন ছিল যেমন, লেগস্পিনার রাখতে হবে, পেস বোলার রাখতে হবে যারা ১৪০ এর ওপর গতিতে বল করবে এসব খুব একটা বাস্তবসম্মত মনে হয়নি।"

উইকেটের উন্নতি
এই টুর্নামেন্টের আগের আসরগুলোতে একটা অভিযোগ ছিল যে রান হয়না।

কিন্তু এবারের আসরে রান হয়েছে প্রচুর।

মোট ২৬টি ম্যাচে ৩০০-র ওপর রান হয়েছে দুই ইনিংস মিলিয়ে। যার মধ্যে তিনটি ম্যাচ ৪০০ পার করেছে।

যেমন চট্টগ্রামের মাটিতে একটি ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ও কুমিল্লা ওয়ারিয়ার্স, দুই দল মিলে মোট ৪৬০ রান তুলেছে।

এই ম্যাচে শুরুতে ব্যাট করে চ্যালেঞ্জার্স ২৩৮ রান তোলে। জবাবে ২২২ রান তোলে ওয়ারিয়ার্স।

নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলছেন, "এবারের বিপিএলের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি যে ধরণের উইকেটে খেলা হয়েছে সেটা। এটা প্রমাণ করে ঢাকা বা চট্টগ্রামে দ্রুত গতি ও সুন্দর বাউন্সি উইকেট বানানো যায়।"

মোট আটবার দলগুলো এক ইনিংসে দুইশ রান পার করে।

এবারের বিপিএলে উইকেট ছিল বৈচিত্রপূর্ণ। বাংলাদেশের পেস বোলাররা ভালো করেছে, আবার স্পিনাররাও একটা ট্র্যাকে খেলেছে যেখানে স্পিন বল করা কঠিন।

তাই চট্টগ্রামের নাসুম আহমেদের মতো স্পিনারদের আলাদাভাবে লক্ষ্য করা গিয়েছে যিনি কঠিন উইকেটেও স্পিন বলটা ঠিকঠাক করতে পারেন।

বাংলাদেশের ক্রিকেট সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রনি বলেন, এবারের বিপিএলের অন্যতম বড় সাফল্যই হলো জাতীয় দলের বাইরে যেসব ক্রিকেটার আছেন তাদের ফোকাসে নিয়ে আসা এবং পারফর্ম করার একটা মঞ্চ তৈরি করা।

নিয়মিত বিদেশী খেলোয়াড়ের অভাব
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স অন্য যে কোনো আসরের চেয়ে ভালো হয়েছে এবার।

কিন্তু এর পেছনে রয়েছে অন্য কারণ।

রাইলি রুশো, মুজিব উর রহমান, দাউয়িদ মালান, আন্দ্রে রাসেল, শোয়েব মালিক ও মোহাম্মদ আমির ছাড়া খুব বেশি নিয়মিত আন্তর্জাতিক মানের তারকা ছিলেন না এই আসরে।

ক্রিস গেইল এসেছেন একেবারে শেষ পর্যায়ে।

গত আসরে ছিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স, স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নারের মতো ক্রিকেটাররা।

ছিলেন রশিদ খান।

কিন্তু বিপিএল শুরুর আগে যে অনিশ্চয়তা কাজ করছিল তাতে রশিদ খান এই টুর্নামেন্টে নাম লেখাতে স্বচ্ছন্দ অনুভব করেননি বলে জানান।

এর ফলেই বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা মন খুলে খেলতে পেরেছেন বলে মনে করেন আরিফুল ইসলাম রনি।

তিনি বলেন, রান বা উইকেট সংখ্যায় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এগিয়ে থাকলেও এর একটা বাজে দিক হলো বাংলাদেশর ক্রিকেটাররা যথেষ্ট প্রতিযোগিতা পায়নি।

কিন্তু এর মাঝেও বাংলাদেশের যেসব ক্রিকেটার আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন তাদের একজন মেহেদি হাসান রানা। ৯ ম্যাচে ১৪ গড়ে ১৭ উইকেট নিয়েছেন এই ফাস্ট বোলার।

মুশফিকুর রহিম ছিলেন টুর্নামেন্ট জুড়ে দারুণ ফর্মে, অল্পের জন্য দুটো সেঞ্চুরি হাতছাড়া হয়েছে তার তবুও আছেন এক নম্বরে।

এছাড়া ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, মোহাম্মদ নাইম, আফিফ হোসেনরা নিয়মিত রান করেছেন এবারের টুর্নামেন্টে।-বিবিসি

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech