যুদ্ধের ছায়ায় বিশ্বকাপ শুরু, ইরানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

  08-06-2026 12:20PM


পিএনএস ডেস্ক: ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার পরও কেউ কল্পনা করেনি যে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে এত প্রতিকূলতার মুখে পড়বে ইরান। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই যুদ্ধ, কূটনৈতিক সংকট, ভিসা জটিলতা এবং রাজনৈতিক বিতর্কে ঘেরা হয়ে পড়েছে ‘টিম মেল্লি’।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরো তিক্ত হয়ে ওঠে। সামরিক সংঘাতের জেরে দুই দেশের উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

সবচেয়ে বড় বাধা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা। শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড় এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফদের ভিসা দেওয়া হলেও ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ভিসা পাননি।

এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের অভিযোগ, খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করছে ওয়াশিংটন।

শুধু তাই নয়, ভিসার শর্ত অনুযায়ী ইরান দলকে ম্যাচের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে ম্যাচ শেষে একই দিনে দেশ ছাড়তে হবে। ফলে দলটি তাদের পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা ক্যাম্প বাতিল করে ফিফার অনুমোদন নিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় ঘাঁটি গেড়েছে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের অভিযান। এরপর একই শহরে বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ইতিহাস চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বৈরী। ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল এবং তার পরবর্তী জিম্মি সংকটের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

ফুটবল প্রায়শই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের অন্যতম সুযোগ করে দিয়েছে।

১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে ইরান। ম্যাচ শুরুর আগে মার্কিন খেলোয়াড়দের ফুল উপহার দিয়েছিলেন ইরানি ফুটবলাররা। সেই দৃশ্য আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধাবস্থা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ শুধু ফুটবল নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিরও বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

দেশের ভেতরেও ইরান জাতীয় দলকে ঘিরে আগের মতো ঐক্য নেই। ২০২২ সালের বিক্ষোভ ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর জাতীয় দলকে ঘিরে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। একাংশ এখনো দলটিকে জাতীয় গৌরবের প্রতীক হিসেবে দেখে, অন্যদিকে সমালোচকরা মনে করেন দলটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে জড়িত।

তবু ফুটবল ইরানের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। কোটি কোটি সমর্থক বিশ্বকাপে তাদের দলের দিকে তাকিয়ে থাকবে। সাতবার বিশ্বকাপে খেলেও কখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি ইরান। ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে এবার সেই ইতিহাস বদলানোর স্বপ্ন দেখছে তারা।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, মাঠের ফুটবল কি সব আলোচনাকে ছাপিয়ে যেতে পারবে? যুদ্ধ, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা, ভিসা সংকট এবং রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে দাঁড়িয়ে ইরান সম্ভবত বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া দলগুলোর একটি।



পিএনএস/এমএইউ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন