যে কারণে বাতিল হয়েছে ক্রোয়েশিয়ার সেই 'গোল'

  03-07-2026 06:20PM

পিএনএস ডেস্ক : ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচের সাক্ষী হলো কানাডার টরন্টোর মাঠ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর নকআউট পর্বের এই স্নায়ুযুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। মাঠের চরম উত্তেজনা আর প্রযুক্তির নিখুঁত চুলচেরা বিশ্লেষণে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। তবে এই ম্যাচের মূল ভাগ্য নির্ধারণ করে দিল বলের ভেতরে থাকা বিশেষ ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’ বা স্মার্ট সেন্সর প্রযুক্তি। যার ফলে অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে গোল করেও অফসাইডের কারণে হৃদয়বিদারক বিদায় নিতে হলো ক্রোয়াটদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্য থাকার পর বিরতির ঠিক পরপরই চমৎকার এক গোলে ক্রোয়েশিয়াকে লিড এনে দেন ইভান পেরিসিচ। তবে ক্রোয়াটদের সেই আনন্দের স্থায়ীত্ব বেশি হতে দেননি পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। চলতি বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় গোলটি করে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান সিআরসেভেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে ১-১ সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা চতুর্থ মিনিটে রাফায়েল লিয়াও এর নিখুঁত ক্রস থেকে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেডে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন গনসালো রামোস। ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে মরণকামড় দেয়। ১০৩ মিনিটের মাথায় পর্তুগালের ডি-বক্সে উড়ে আসা একটি দূরপাল্লার পাস বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন মারিও পাসালিচ। এরপর তিনি বলটি বাড়িয়ে দেন জোসকো গভার্দিওলের দিকে, যিনি স্লাইডিং শটে বল পর্তুগালের জালে জড়িয়ে দেন।

গোলের পর উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো ক্রোয়েশিয়া শিবির। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছিল, চিরপরিচিত লড়াকু ক্রোয়েশিয়া আবারও অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরে এসেছে। তবে ক্রোয়েশিয়ার গোলের আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেনি। অনফিল্ড রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সাহায্য নেন। শুরুতে মনে হয়েছিল, পাসালিচ যখন বলটি রিসিভ করেন, তখন সেটি পর্তুগিজ ডিফেন্ডার রেনাতো ভেইগার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে এসেছিল, যা পাসালিচকে ‘অনসাইড’ রাখত।

কিন্তু ভিএআর রিভিউ এবং ফুটবলের আধুনিক প্রযুক্তি পুরো চিত্র বদলে দেয়। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) বিষয়টি স্পষ্ট করে জানায়। চলতি বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল অ্যাডিডাস ট্রিওন্ডার ভেতরে থাকা আইএমইউ (IMU) সেন্সর পরীক্ষা করে দেখা যায়, বলটি ভেইগার গায়ে লাগার ঠিক আগে ক্রোয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড ইগর মাতানোভিচের মাথায় সামান্য স্পর্শ করেছিল।

ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, মাতানোভিচ যখন বলে হেড করেছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে পাসালিচ অফসাইড পজিশনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ফলে প্রযুক্তির নিখুঁত ডেটার ওপর ভিত্তি করে রেফারি ক্রোয়েশিয়ার গোলটি বাতিল করে দেন।

এ নিয়ে ফিফা মিডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘ট্রিওন্ডা বলের ভেতরে থাকা আইএমইউ সেন্সর যেকোনো অতি সূক্ষ্ম স্পর্শও ধরে ফেলতে সক্ষম, যা ব্রডকাস্টে দর্শকদের সুবিধার্থে ‘হার্টবিট গ্রাফিক্স’ হিসেবে দেখানো হয়। এই প্রযুক্তি অফিশিয়ালদের দ্রুত এবং নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে।’

টরন্টোর এই স্মরণীয় ‘টাগ অব ওয়ার’ বা কঠিন লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে পর্তুগাল। অন্যদিকে, প্রযুক্তির নিখুঁত মারপ্যাঁচে পড়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় ঘটল ২০১৮ বিশ্বকাপ রানার্সআপদের।

পিএনএস /এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন