সিরাজগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় ছয়জনের যাবজ্জীবন

  


পিএনএস ডেস্ক: সিরাজগঞ্জে তরুণী ধর্ষণ মামলায় ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডিতদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে নির্যাতিত তরুণীকে অর্থ আদায় করে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল ১ এর বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির ৪ আসামির উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলো সদর উপজেলার পার পাচিল গ্রামের মোজাহার আলীর ছেলে মো. রাসেল ওরফে রবিউল (২৫), ভাটপিয়ারী গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে সোহেল (২৬), একই গ্রামের দানেজ আলীর ছেলে রাজ্জাক (৪৪), পার পাচিল গ্রামের সুলতানের ছেলে নাজমুল (২৪), একই গ্রামের নুরু ওরফে নুর ইসলাম (২৬) ও আলতাফ কসাইয়ের ছেলে মোমিন (৩৪)। সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল হামিদ লাবলু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সদর উপজেলার ভাটপিয়ারী গ্রামের মৃত আবু সাইদের মেয়ে (১৮) সঙ্গে পাঁচিল গ্রামের রাসেলের মোবাইল ফোনে প্রেম হয়। ২০১৬ সালের ২০ এপ্রিল রাতে ওই তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যমুনা নদীর ভাটপিয়ার চরে আসতে বলে রাসেল। প্রেমিককে বিশ্বাস করে ভাটপিয়ারী যমুনার চরে গেলে রাজ্জাক, নাজমুল, নুরু ও সোহেলকে ফোন করে ডেকে এনে ওই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। এতে নির্যাতিত তরুণী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে আখক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ধর্ষকেরা। ভোর ৪টার দিকে নির্যাতিত তরুণী জ্ঞান ফিরে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফেরার পথে অপর আসামি মোমিন তাকে একা পেয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে ওই তরুণী ফোন করে তার বোন-ভগ্নিপতিকে বিষয়টি জানালে তারা অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক বাসুদেব সিনহা। মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে ৬ ধর্ষকের বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা করেন আদালত। আসামিদের মধ্যে সোহেল ও আব্দুল মোমিন পলাতক।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন