বৈদ্যুতিক বাতির মোড়কে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা আসছে রাজধানীতে

  


পিএনএস ডেস্ক: কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ইয়াবা চোরাচালানে এসেছে বড় পরিবর্তন। বেশ কিছুদিন ধরে বৈদ্যুতিক বাতির কার্টনের মধ্যে ইয়াবা ঢুকিয়ে ঢাকার ঠিকানায় কুরিয়ার করছে কারবারিরা। দুই-একদিন পর বিমানে ঢাকায় এসে মাদকের পার্সেলটি বুঝে নিচ্ছে একই ব্যক্তি। তারপর ঢাকার ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতাদের হাত ঘুরে ভোক্তার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে ইয়াবা। চক্রের ছয়জনকে গ্রেফতারের পর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ব্যবসায় নেমেছে বাবা-ছেলে, ভাই-বোনও।

কক্সবাজার থেকে কার্টনভর্তি বৈদ্যুতিক বাতির চালান বুঝে নিতে ঢাকার বংশালে কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে আনুষ্ঠানিকতা সেরে পার্সেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন এক ব্যক্তি। সন্দেহভাজন এই ব্যক্তির খোঁজে একের পর এক হোটেলে তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। পাঁচ নম্বর হোটেলে সন্ধান মেলে তার। পাওয়া যায় কার্টনও। সেটি খুলে দেখা যায়, চালানের ঘোষণা অনুযায়ী বৈদ্যুতিক বাতি আছে। তবে কার্টনের একেবারে নিচের দিকে বাতির মোড়কের মধ্যে পাওয়া যায় পলিথিনে মোড়ানো প্যাকেট। সেগুলো খুলতেই মেলে ইয়াবা।

বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্যের মোড়কের মধ্যে ইয়াবা ঢুকিয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকার ঠিকানায় কুরিয়ার করে দিতেন কার্টনের মালিক হারুন। দু'একদিন পর বিমানে ঢাকায় এসে পার্সেল বুঝে নিয়ে ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতেন মাদক। তিনি জানান, 'কক্সবাজারে ইলেকট্রিক মালামাল ফেরি করে বিক্রি করি। এখানে যে নষ্ট মালগুলো থাকে সেগুলো কুরিয়ারের মাধ্যমে ইয়াবা আনি। এগুলো ঢাকার পার্টির কাছে হ্যান্ডওভার করে দেই। আমাকে ওরা ২০-৩০ হাজার টাকা দেয়।'

কক্সবাজারের ব্যবসায়ী হারুনকে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যে ঢাকার ব্যবসায়ী, খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তাদের ধরতে অভিযানে নামেন গোয়েন্দারা। ধরা পড়েন দুইজন করে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা এবং একজন ভোক্তা। আটককৃত নারী ডিলার জানান, 'আমি হারুনের কাছ থেকে মাল বুঝে নিয়ে আমার ছোট ভাইরে দেই। ছোট ভাই এগুলো বিক্রি করে। আমি ওইখান থেকে লাভ পাই।'

ওই নারী ডিলারের ছোট ভাই ইয়াবা বিক্রেতা জানান, 'একটা মাল ২ হাজার করে ৩টা মাল ৬ হাজার টাকা করে দিতো আমাকে।'

পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত এই চক্রের সদস্যরা। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে বাবা-ছেলে ও ভাই-বোন। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ভোক্তাদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান আরো জোরদার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ কমিশনার বদরুজ্জামান জিল্লু বলেন, 'কুরিয়ার করলে মালটা সে শুধু রিসিভ করলে হবে না, সে নিজেই রিসিভ করবে পরে ঢাকার দুুইজন ডিলারকে দিয়ে দিবে। দুইজন আবার তাদের দুইজন সাবডিলার আছে, তাদের দিবে। দীর্ঘ সময় ধরে এ কাজ করছে তারা। যেমন ঢাকার একজন ডিলার আছে যার নামে ১২টি মামলা আছে।'

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক চোরাচালানের কৌশলে প্রতিনিয়তই পরিবর্তন আসছে। সে-অনুযায়ী গোয়েন্দা নজরদারিতেও বদল আনা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগের (উত্তর) যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, 'কক্সবাজার বিশেষ করে বর্ডার এরিয়াতে কড়াকড়ি আরোপ করা। এবং আমাদের এখানে শুধু পুলিশকে না, আমাদের অন্যান্য সংস্থাকেও খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া অভিভাবক মহলকে তাদের ছেলেমেয়েরা কোথায় যাচ্ছে সে বিষয়ে খোঁজখবর নিতে হবে। সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একা ডিবির পক্ষে বা একটি সংস্থার পক্ষে এটি নির্মূল সম্ভব না।' -খবর ডিবিসি টেলিভিশনের প্রতিবেদন

পিএনএস/আনোয়ার


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন