টাঙ্গাইলে নারীকে পেটালেন আ.লীগের ইউপি চেয়ারম্যান, ভিডিও ভাইরাল

  05-07-2026 12:03PM


পিএনএস ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় এক নারীসহ কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন স্থানীয় মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর।

এমন একটি ভিডিও শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। ছয়বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুরের এই মারধরের ঘটনায় এলাকায় সমালোচনা হচ্ছে।

৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিভাষ সরকার নুপুরের হাতে একটি চিকন লাঠি। কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে আসছেন। পরে তিনি একটি মাটির স্তুপের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানে উপস্থিত এক নারীকে অশালীন ভাষায় গালি দেন। ওই নারী এর প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান প্রথমে গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে মারেন। পরে ওই নারী ও তাদের মেয়ে এগিয়ে এলে তাদেরও পেটাতে দেখা যায়।

ভিডিওটি ২৭ জুন সকালে ধারণ করা হয়। উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের তেঘরী কেশব গ্রামের বাসন্তী রানীর জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুরের বাড়িও একই গ্রামে।

বাসন্তী রানী অভিযোগ করে বলেন, তার চাচা উপেন্দ্র সরকার আগে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। এ জন্য তাদের কিছু জমিও তাকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ফলে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানা প্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাদের জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর। এতে বাধা দিলে তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা ও মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়।

বাসন্তী রানী বলেন, ‘‘চেয়ারম্যান সাহেব রাস্তার অজুহাতে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর করেন। আমার ছোট মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, বিভাষ সরকার নুপুরের ভয়ে এলাকায় অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তাদের অভিযোগ, সামান্য বিষয় নিয়েও তিনি লোকজনকে মারধর করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাষ সরকার নুপুর। তিনি বলেন, ‘‘ওই মহিলা ভালো না। বাউন্ডারির বাইরেও স্কুলের পাঁচ-ছয় ফুট জায়গা আছে। উপেন্দ্রর চলাচলের জন্য সেখানে রাস্তা করার সময় ওই মহিলা বাধা দেন। এ জন্য তাদের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়েছি।’’

মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া বলেন, ‘‘একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির নিকট থেকে এ ধরনের কাজ কাম্য নয়। তার উচিৎ ছিল আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা।’’

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


পিএনএস/মোআ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন