খাল খননের মজুরি চাওয়ায় নারী শ্রমিকদের হেনস্তার অভিযোগ পিআইওর বিরুদ্ধে

  07-07-2026 02:04PM

পিএনএস ডেস্ক: খাল খননের মজুরি চাওয়ায় নারী শ্রমিকদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া খাল পুনর্খননের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ কর্মকর্তা কাজল মিয়ার বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার অভিযোগও উঠেছে।

এর প্রতিবাদে সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলা ঘেরাও করে রাখেন খাল খননে কর্মরত অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ।

শ্রমিক ও খাল পুনর্খননের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বোয়ালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সূত্রে জানা যায়, ৪০ কর্মদিবসের খাল পুনর্খননের কাজ চলছে গাইবান্ধা সদরের বোয়ালী ইউনিয়নের রাধা কৃষ্ণপুর এলাকায়। রাধা কৃষ্ণপুর ব্রিজ থেকে কালিকা প্রসাদ চৌধুরী হয়ে কলেজ রোড প্রফেসর কলোনি ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত ২৭ দিন কাজ করেছেন নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা।

তবে বিশ কার্যদিবসের মধ্যে মজুরি প্রদানের কথা থাকলেও ২৭ কার্যদিবস অতিক্রম হলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াজুল ইসলাম শ্রমিকদের মজুরি না দিয়ে তাদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রকল্পের শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম ও ট্যাগ কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার কাজল মিয়ার কাছে বিলের কথা বলতে গেলে দুর্ব্যবহার এবং শ্রমিক তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি নারী শ্রমিককে কান ধরে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও রিয়াজুল ইসলাম।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শ্রমিকরা মজুরি না পেয়ে সোমবার দুপুর থেকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী সদর উপজেলা পরিষদের সামনে ক্ষোভ জানান। এ সময় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিকরা উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করেন।

নারী শ্রমিক উর্মিলা বলেন, ‘কামের টাকা চাইতে গেলে পিআইও কান ধরে অফিস থেকে বের করে দিতে চান আমাদের। আমরা তার শাস্তি চাই। অনেক খারাপ ব্যবহার করেছে এই পিআইও ও ট্যাগ অফিসার। আমরা এখন না খেয়ে আছি, আর ওরা আমাদের শাসায়। কষ্ট করে কাজ করেছি, কেন ওরা আমাদের বিল এখনো দিচ্ছে না।’

ভুক্তভোগী শ্রমিক সর্দার আব্দুল কাদের বলেন, ‘সমস্যা আমরা খাল খাওয়ানোর কাম করছি। টাকা চাইলে আমাদের সঙ্গে সাহেব জঘন্য খারাপ ব্যবহার করছে। উনার বাপের বয়সের বয়স আমার। আমাক রোদের মধ্যে দেড় ঘণ্টা দাঁড় করিয়া রাখছে। বিশ দিন পরে টেকা দেওয়ার কথা; কিন্তু ২৭ দিন কাজ করেও আমরা টাকা পাচ্ছি না।’

অন্যদিকে খাল পুনর্খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি বোয়ালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাবু বলেন, এই টাকাটা পাওয়ার কথা ছিল এক সপ্তাহ আগে, তবে আজ পাবে কাল পাবে এরকম নানা কথা বলে হয়রানি করছেন পিআইও। এই টাকা তো পিআইও ও ইউএনও স্যারের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আসে। এখানে তো আমার করার কিছু নেই। শ্রমিকরা আমার কাছে এলে আমি পিআইওকে বিষয়টি জানালে তিনি আমার সঙ্গে কথা কাটাকাটি করেন। আমি চাই, দ্রুত শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি পাক।

এই ঘটনায় খাল পুনর্খননের ট্যাগ অফিসার কামাল মিয়া সরাসরি বক্তব্য দিতে রাজি না হলেও গোপনে বলেন, ‘আমি স্বাক্ষর দিয়ে শ্রমিকদের তালিকার মেইল পিআইওকে দিয়েছি। তবে বিল পিআইও সাহেব দেবেন কি না দেবেন না, তার বিষয় এটি। আমি ঘটনাস্থলে ৮৩ জন শ্রমিকের বদলে ৫০ জন শ্রমিক পেয়েছি। আজকের ঘটনা উদ্দেশ্যেমূলকভাবে মব সৃষ্টি করেছেন চেয়ারম্যান শ্রমিকদের মাধ্যমে।’

নারী শ্রমিকদের কান ধরে বের করে দেওয়ার বিষয়ে সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব না হলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমি কিছু জানি না।

এদিকে শ্রমিকরা মজুরি না পেয়ে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক মোবাইলে বলেন, আমি নতুন এসেছি উপজেলায়। ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।


পিএনএস/মোআ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন