বিদায়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক মহাতারকার অপেক্ষা

  07-07-2026 01:55PM


পিএনএস ডেস্ক: সবুজ গালিচায় তখন বিষাদের সুর। স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলের হার, যেন একটি মহাকাব্যের শেষ অধ্যায়। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর মাঠ ছাড়ার সময় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চোখে-মুখে ছিল এক অদ্ভুত শান্ত অথচ ভারী চাদর। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পর্তুগাল অধিনায়ক নিজেই স্বীকার করে নিলেন, স্পেনের বিপক্ষের এই শেষ ষোলোর লড়াইটিই ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ।

তবে বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ হলেও, পর্তুগালের লাল-সবুজ জার্সিতে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেরও এখানেই ইতি কি না সে বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত রায় দিতে রাজি নন ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা। আবেগের বশে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি।

ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর করা গোলটি পর্তুগালকে ছিটকে দেয় বিশ্বকাপ থেকে। সোমবার ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে দাঁড়ানো রোনালদোর কণ্ঠে ছিল কিছুটা ভাগ্যের নির্মমতার কথা। ম্যাচটি যেকোনো দিকেই মোড় নিতে পারত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্যদেবী কিছুটা হলেও স্পেনের পক্ষে ছিলেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রোনালদো সরাসরিই বললেন, ‘এভাবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে অবশ্যই কষ্ট লাগছে। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি। নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাই আমার বিবেক একদম পরিষ্কার। হ্যাঁ, এটিই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ। এখন আমি কিছুটা সময় নিয়ে সবকিছু ভাবতে চাই, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চাই। তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেব না।’

জাতীয় দলের হয়ে নিজের অবিশ্বাস্য অবদান নিয়ে এই ফরোয়ার্ডের গর্বের শেষ নেই। ২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশনস লিগ জয়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া রোনালদো মনে করিয়ে দিলেন পর্তুগিজ ফুটবলের ইতিহাস।

নিজের অর্জনের খতিয়ান টেনে তিনি বলেন, ‘আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আগে পর্তুগাল একটি শিরোপাও জেতেনি।’ ২০১৬ সালের ইউরো জয়কে নিজের ক্যারিয়ারের অনন্য এক চূড়া উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। সত্যি বলতে, আমার কাছে এর মূল্য বিশ্বকাপ জয়ের সমান।’

ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত দিয়ে দলের এই বড় টুর্নামেন্টের আলোচনাকে তিনি আড়াল করতে চান না বলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমি কখনোই আবেগের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিই না।’

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের এই বিষাদময় ক্ষণে দলের প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেজের অধ্যায়ও শেষ হয়েছে। তবে বিদায়ী কোচের প্রশংসা করতে ভোলেননি অধিনায়ক। তাঁর মতে, মার্তিনেজের মতো একজন অসাধারণ কোচ এবং বড় মাপের মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল। পর্তুগালের ফুটবলে কোচের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি পাওয়া উচিত উল্লেখ করে তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের প্রতি শুভকামনাও জানান রোনালদো।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশা যেন এখনো তাজা। রোনালদো তাঁর চিরচেনা লড়াকু মানসিকতা প্রকাশ করে বললেন, ‘বড় কোনো টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া সব সময়ই কষ্টের। এটি বিশ্বকাপ। আমার মনে হয়, আমাদের দল ধীরে ধীরে নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরছিল। আমরা ভালোই খেলেছি। ম্যাচটি যেকোনো দিকে যেতে পারত। কিন্তু ফুটবল এমনই। এখন আমাদের আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

একটি দীর্ঘশ্বাসের পর ভবিষ্যৎ আর বর্তমানের দোলাচলের মাঝেই পর্তুগিজ যুবরাজ শেষ করলেন এই বলে, ‘এভাবে বিদায় নেওয়া অবশ্যই হতাশাজনক। কিন্তু আমরা মাথা উঁচু করেই মাঠ ছাড়তে পারি।’


পিএনএস/মোআ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন