বগুড়ায় ডিবি হাজতে হত্যা মামলার আসামির আত্মহত্যা

  19-07-2026 06:43PM

পিএনএস, বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাজতখানার বাথরুমে হত্যা মামলার আসামি আত্মহত্যা করেছে। অটোরিকশা চালক আব্দুল মান্নানকে নৃশংস হত্যার প্রাথমিক স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর আদালতে হাজির করার আগেই তার মৃত্যু অনাকাঙ্ক্ষিত বলে দাবি করেছে পুলিশ।

ডিবি হেফাজতে থাকা আসামির মৃত্যুর ঘটনায় প্রচলিত বিধি অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। নিহত আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০) সারিয়াকান্দি উপজেলার জোরগাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া ডিবি কার্যালয়ের হাজতখানার বাথরুমে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে লুঙ্গি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় আসামি। আগেরদিন শনিবার দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, রোববার সকালে নাশতা করার পর হাজতখানার মধ্যে আসামি কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে। সকাল ১০টা ১১ মিনিটে বাথরুমে প্রবেশ করে বের হচ্ছিল না। বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা বাথরুমে প্রবেশ করে। ভেন্টিলেটরের সঙ্গে লুঙ্গি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। হাজতখানার সিসিটিভি ফুটেজের বরাত এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ইফতেখারুল ইসলাম জানান, সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে আসামি আসাদকে হাসপাতালে আনা হয়। অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার মৃত্যু হয়। গলায় ফাঁস দেওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে।

ডিবি পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন সকালে সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া কৈখালী এলাকার বিল থেকে অটোরিকশা চালক আব্দুল মান্নানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আসাদুজ্জামান আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছে নিহত মান্নানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে।

ডিবির ওসি ইকবাল বাহার জানান, হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নৃশংস ঘটনার রহস্য উন্মোচন হয়। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করে। গত ২৮ জুন সন্ধ্যার পর তিনি আরও দুজনকে নিয়ে যাত্রী সেজে অটোরিকশা ভাড়া নেন। সারিয়াকান্দি এলাকায় অটোরিকশা চালক আব্দুল মান্নানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। বিলের মধ্যে লাশ ফেলে অটোরিকশা নিয়ে নওগাঁ যান। সেখানে গ্যাস শেষ হয়ে গেলে অটোরিকশা ফেলে পালিয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তার আসাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে নওগাঁয় অভিযান চালায় ডিবি। অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ডিবির ওসি।

আত্মহত্যা করা আসামির বাবা মতি মুন্সি একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। তিনি বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর তার ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পরিবার বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। ডিবি হাজতখানায় ছেলের আত্মহত্যার খবর জানতে পারেন।

বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন আসামি আসাদ। আদালতে হাজির করে জবানবন্দি নেওয়ার আগেই আত্মহত্যা করে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


পিএনএস/এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন