ইতালিতে ৩ বাংলাদেশিকে হত্যা, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

  30-06-2026 01:48PM


পিএনএস ডেস্ক: ইতালির রাজধানী রোমের কাসালোত্তি এলাকায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইতালীয় পুলিশের তদন্ত এবং স্থানীয় প্রবাসীদের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, নিহত গৃহবধূ আরজু বেগমের প্রতি ঘাতক শাহাদাত হোসেনের একতরফা অন্ধ আসক্তি এবং প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জেরেই এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

নিহতরা হলেন, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী আরজু বেগম এবং তাদের আট বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। এই ঘটনায় দম্পতির বড় ছেলে আমির গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

তদন্তে জানা গেছে, ৪৩ বছর বয়সী শাহাদাত হোসেন কয়েক মাস আগে যুক্তরাজ্য থেকে সপরিবারে রোমে আসেন। দেশে একই এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে কামাল উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। তবে শাহাদাত দীর্ঘদিন ধরে আরজু বেগমের প্রতি অস্বাভাবিক ও একতরফা আসক্ত ছিলেন। আরজু বেগম তার এই অনৈতিক প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করায় মনে ক্ষোভ পুষে রাখছিলেন শাহাদাত।

হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া শাহাদাতের একটি পোস্ট এখন তদন্তকারীদের মূল নজরে এসেছে। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘কেউ একা মারা যায় না। সবসময় তার সঙ্গে আরেকজনও মারা যায়। মৃত্যু এলে নিজের প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উচিত, যাতে কাউকে প্রিয়জন হারানোর কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকতে না হয়।’ এই পোস্ট থেকেই স্পষ্ট যে তিনি আগে থেকেই আরজু বেগমসহ পুরো পরিবারটিকে শেষ করে দেওয়ার এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা সাজাচ্ছিলেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শনিবার(২৭ জুন) রাত ৯টার দিকে একটি ধারালো দা (ম্যাশেটি) নিয়ে ওই পরিবারের বাসায় ঢোকেন শাহাদাত। ঘরে ঢুকেই তিনি প্রথমে আরজু বেগম এবং তার আট বছরের শিশু কন্যাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন। এরপর আরজু বেগমের স্বামী কামাল উদ্দিনকেও একইভাবে খুন করা হয়। হত্যার পর মরদেহগুলো বিছানার নিচে লুকিয়ে ফেলারও চেষ্টা করেন তিনি।

ঠিক সেই মুহূর্তে বাইরে থেকে বাসায় ফেরেন দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির। তিনি বাবা-মা ও বোনকে বাঁচাতে গেলে ঘাতক শাহাদাত তার ওপরও চড়াও হন। আমিরের সঙ্গে ধস্তাধস্তির শব্দে এক প্রতিবেশী বাইরে এসে আমিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং ঘাতককে পালিয়ে যেতে দেখেন। আমির আইসিইউতে যাওয়ার আগে চিৎকার করে পুলিশকে ঘাতকের নাম জানিয়ে বলেন, ‘এটা শাহাদাতই করেছে। সে আমার মাকে মেরেছে, পুরো পরিবার শেষ করে দিয়েছে।’

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই শাহাদাত হোসেন পলাতক। ঘটনাস্থলে তিনি নিজের মোবাইল ফোনটি ফেলে যান। ইতালির পুলিশ এখন সেই ফোনের তথ্য এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেশজুড়ে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। রোমের প্রসিকিউটর অফিস এই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে এবং ঘাতককে দ্রুত গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।


পিএনএস/এমএইউ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন