পিএনএস ডেস্ক: নিখোঁজ ছাত্র শিবিরের নেতা জিসানকে উদ্ধার পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়েছে জাতীয় সংসদ। তীব্র হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে রুলিং দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন স্পিকার।
রবিবার (১৪ জুন) সংসদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জিসানের বিষয় ও ঘটনার বিবরণ তুলে ধরলে সরকারি ও বিরোধী পক্ষের সংসদ সদস্যদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জিসান ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিরোধী দল।
সংসদ অধিবেশন চলাকালে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের অনুমতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দেন। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদকে অবহিত করেন, দুর্নীতির মামলায় পলাতক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই ঘোষণার পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাত্রশিবিরের সদ্য বহিষ্কৃত সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক নেতা জিসানের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গটি সংসদে উত্থাপন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১২ জুন তাদের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু বিয়েতে না বসার উদ্দেশ্যে ১১ জুন রাতে জিসান নিজেই আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে পুলিশি অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাকে কুমিল্লার লাকসাম এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে জিসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রকৃত তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরার স্বার্থেই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সংসদে তীব্র আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার শুরুতে তিনি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর সংসদে তীব্র আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার শুরুতে তিনি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।
পরে বিরোধীদলীয় উপনেতা তাহের বলেন, ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যের সুযোগ ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। একটি বিচারাধীন এবং বিতর্কিত বিষয়কে সংসদে এভাবে উপস্থাপন করা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এতে সংসদের মর্যাদা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
তিনি জানতে চান, জিসান বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, কেন সাংবাদিকদের তার সঙ্গে কিংবা অভিযোগকারী নারীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না এবং পুরো ঘটনায় কোনো সাজানো নাটক বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না? তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে একতরফা তথ্য সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা অনুচিত।
বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তারা নিজেদের আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখান বিরোধী দলের সদস্যরাও। একপর্যায়ে সংসদ কক্ষে উচ্চস্বরে বাগ্বিতণ্ডা, চিৎকার এবং হট্টগোল শুরু হয়। ডেপুটি স্পিকার একাধিকবার সদস্যদের শান্ত হওয়ার এবং নিজ নিজ আসনে বসার আহ্বান জানান। এমনকি কিছু সময়ের জন্য মাইকও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবুও উভয় পক্ষের সদস্যদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলতে থাকে। সংসদ কক্ষে কয়েক মিনিট ধরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করে। স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ডেপুটি স্পিকার জানান, ৩০০ বিধির আওতায় প্রদত্ত বিবৃতির ওপর সাধারণত কোনো প্রশ্ন করা বা বিতর্ক করার সুযোগ থাকে না। তবে নিয়ম মেনে স্পষ্টীকরণের প্রশ্ন করা যেতে পারে।
তিনি সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রুলিং দেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য যদি সংসদীয় রীতির বাইরে প্রমাণিত হয়, তবে তা বিধি অনুযায়ী এক্সপাঞ্চ করা হবে।
ডেপুটি স্পিকারের কঠোর নির্দেশনায় দীর্ঘ সময় পর উভয় পক্ষ আসনে বসলে সংসদের পরবর্তী স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়।
পিএনএস/এএ
শিবির নেতা জিসান ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ
14-06-2026 08:22PM

