বরগুনায় মা ও ২ মেয়ের মৃত্যু, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল

  04-06-2026 05:37PM


পিএনএস ডেস্ক: বরগুনায় মা ও তার দুই মেয়ে শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর সিসি ক্যামেরার ২ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ইতি রাণী তার তিন বছরের মেয়ে অনুরাধাকে কোলে নিয়ে সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবে ডাকবাংলোর তৃতীয় তলায় হেঁটে উঠছেন। তার হাতে ছিল একটি ঝাড়ু। পেছনে বড় মেয়ে আরাধা (১২), সেও সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তৃতীয় তলায় উঠছিল।

বুধবার (৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে পুলিশ ইতি রাণী, তার দুই মেয়ে আরাধা বিশ্বাস ও অনুরাধা বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইতি রাণী তার ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে প্রথমে তৃতীয় তলার চার নম্বর রুমে প্রবেশ করেন। এ সময় বড় মেয়েটিও ওই রুমে প্রবেশ করে। এরপর ওই রুম থেকে বের হয়ে তিন নম্বর রুমে প্রবেশ করেন ইতি রাণী। তার পিছনে বড় মেয়েটিও ওই রুমে প্রবেশ করে। তারপর ইতি রাণী ওই রুম থেকে বের হলেও বড় মেয়ে আরাধা ওই রুমেই থেকে যায়। এরপর আর আরাধাকে ফুটেজে রুমের বাইরে দেখা যায়নি।

এরপর ইতি রাণী চার নম্বর রুমে ছোট মেয়েকে নিয়ে প্রবেশ করার জন্য সামনে এগিয়ে যান, কিন্তু রুমে না ঢুকে দুই নম্বর রুমে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে বের হয়ে আবার এক নম্বর রুমে প্রবেশ করেন। এরপর ওই রুম থেকে বের হয়ে ছোট মেয়েটিকে নিয়ে চার নম্বর রুমে প্রবেশ করেন। তারপর আর ইতি রাণী এবং তার ছোট মেয়ে অনুরাধাকে রুমের বাইরে দেখা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মেঘলা রনি নামে একজন লিখেছেন, “এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।”

পূজা হাওলাদার নামে মহিলা সংস্থার নেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আত্মহত্যা কিভাবে হয়? বড় মেয়েটা আলাদা রুমে আত্মহত্যা করলে এখানে কেন? বাড়ি গিয়েও তো করতে পারতো, জানি না কি হচ্ছে!”

জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সকালে পরিচ্ছন্নতার কাজে এসেছিলেন ইতি রাণী। বিকালে সে ও তার দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হলো, অথচ সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে ২ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের। এখানে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই রুমে আর কেউ এসেছিল কিনা।”

বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন ফসল বলেন, “পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলেও জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর বেলকোনির গ্লাসের দরজা খোলা এবং বেলকোনিতে গ্রিল নেই। তাই সেখান থেকে কেউ আশা যাওয়া করেছে কিনা সেই সন্দেহ থেকেই যায়। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে রুমের সামনের দৃশ্য দেখা গেছে, কিন্তু ভেতরের দৃশ্য দেখা যায়নি। তাই এখনি এটাকে আত্মহত্যা কিংবা হত্যা বললে সেটি ভুল তথ্য দেওয়ার শামিল। কারণ হত্যা কিংবা আত্মহত্যা দুটোর কোনোটারই প্রত্যক্ষদর্শী নেই।”

এ বিষয়ে জানতে বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলীমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা বলেন, “সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ কিভাবে ভাইরাল হয়েছে এটা আমাদের জানা নেই। তবে, পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করেছে। হত্যা নাকি আত্মহত্যা এটা গভীরতর তদন্ত শেষে সামনে আসবে।”


পিএনএস/এমএইউ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন