পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত

  21-07-2026 07:37PM

পিএনএস ডেস্ক: টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা কলমাকান্দার উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ঢলের পানি বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাটের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে এবং কৃষির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বৃষ্টি না থাকায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

জানা যায়, গত রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কলমাকান্দা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া তীব্র নদীভাঙনের ফলে আবাদি জমিতে বালু জমে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবং ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের মাছ।

পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নাজিরপুর ও লেংগুরা ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে নলছাপ্রা বাজার-বালুচড়া উচ্চবিদ্যালয় সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ঢলের পানির তীব্র স্রোতে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ধসে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, ফলে সব ধরনের যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সীমান্তবর্তী লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভুঁইয়া জানান, চেংনী নদীর পাড় ভেঙে ইউনিয়নের প্রায় ৫০ একর ফসলি জমিতে বালুর আস্তরণ পড়েছে। এতে জমিগুলো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি আরও জানান, নলছাপ্রা বাজার-বালুচড়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়কসহ একাধিক কাঁচা-পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ছোট-বড় শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

অন্যদিকে, খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবাইদুল হক জানান, সোমবার রাতে হঠাৎ করেই পাহাড়ি ঢলের পানি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে আমনের বীজতলা এবং শতাধিক মাছের পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় মৎস্যচাষী ও কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। ঢলের স্রোতে গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যাতায়াতের কাঁচা সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিদিন নদীর পানি ওঠানামা করছে এবং বৃষ্টি হলেই তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পাহাড়ি ঢল ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে কলমাকান্দার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙনের তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

পিএনএস/এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন