আলুক্ষেতে পচারোগ, শঙ্কিত কৃষক

  

পিএনএস, রাজশাহী: আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার রাজশাহী জেলায় আলুর আবাদ বেড়েছে। তবে এরইমধ্যে বিস্তীর্ণ আলু ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়েছে লেট ব্রাইট (পাতা পচা) রোগ। ক্ষেতে গাছ বেড়ে ওঠা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে লেট ব্রাইটের আক্রমণ। ফলে ক্রমেই সবুজ ক্ষেত ধূসর আকার ধারণ করছে। আর দ্রুততার সাথেই বাড়ছে এ রোগের পরিধি।

ফল ধরার শুরুতেই শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন জেলার আলু চাষীরা। এখনই পদক্ষেপ না নিলে এবার আলুর ফলন হ্রাস পেতে পারে বলে মনে করছেন কৃষকরা। জেলার বাগমারা ও পবা এলাকার মাঠে কয়েকদিন ধরে দেখা দিয়েছে এ রোগ।

রোগে করনীয় হিসেবে কৃষি বিভাগ ক্ষেত পরিদর্শন, মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করে চলেছে। এছাড়াও গ্রামে গিয়ে কর্মকর্তারা সভা করে পরামর্শ দিচ্ছেন।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, এবার জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আলুর আবাদ হয়েছে ৪২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। যদিও লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হাজার ৯শ’হেক্টর। তবে অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ভাল উৎপাদনের আশায় আলু চাষে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতেই লেট ব্রাইটের আক্রমণে দুঃচিন্তায় পড়েছেন তারা।

জেলার মোহনপুর উপজেলার রক্ষিতপাড়া গ্রামের মোকবুল হোসেনের ছেলে মতিউর রহমানের ক্ষেতে ধরেছে পাতাপচা রোগ। এমন রোগে আক্রান্ত হয়েছে সাকোয়া গ্রামের বুলবুল, গোছা গ্রামের আমজাদ হোসেনের আলুক্ষেতে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার আলুক্ষেতের প্রায় একই অবস্থা।

জেলার বাগমারার বালিয়া গ্রামের আলুচাষী ইদ্রিস আলী বলেন, তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ডায়মন্ড ও এস্টোরিকস জাতের আলু চাষ করেছেন। সবমিলে এ পর্যন্ত ৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গাছও বেড়েছে চমৎকার। তবে হঠাৎ তার আলুক্ষেতে পাতা পচা শুরু হয়েছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই পচন রোগ। আশপাশের ক্ষেতেও একই অবস্থা বলে তিনি জানান। অন্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি জমিতে করমিলসহ দু-একটি ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনই সুফল পাচ্ছেন না।

বলিদাপাড়া গ্রামের আলুচাষী আবু তালেব জানান, তাদের আলুর গাছের পাতা পচন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কীটনাশক কোম্পানির এজেন্টদের পরামর্শে তারা বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু ফল মিলছে না।

বাগমারা উপাজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান জানান, আলু চাষাবাদের শুরুতে অতি মাত্রায় ইউরিয়া ব্যবহার ও ঘনকুয়াশাসহ আবহাওয়াগত কারণে সাধারণত আলু ক্ষেতে লেট ব্রাইট রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে। তিনি উপজেলাব্যাপী বিভিন্ন আলু ক্ষেতে লেট ব্রাইটের আক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কথা স্বীকার করে জানান, এ থেকে পরিত্রাণের উপায় ও করণীয় সম্পর্কে প্রতিনিয়ত কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। লেট ব্রাইট আক্রান্ত জমিতে প্রথম পর্যায়ে মেটালক্সিন পরবর্তীতে মানকোজেব এবং শেষে আবার মেটালক্সিন ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন এ কৃষি কর্মকর্তা। এছাড়া বেশি পচন দেখা দিলে প্রতিলিটার পানিতে ৬ গ্রাম পটাশ এবং ৬ গ্রাম থিয়োভিট মিশিয়ে আলুর গাছে স্প্রে করতে হবে। এতে গাছে শক্তি ফিরে আসবে বলে জানা তিনি।

জেলার পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মনজুরে মাওলা বলেন, ঘন কুয়াশায় ম্যানকোজেব ম্যাটালিক্সিল (ম্যাটারিল, ম্যাটাটিকি, ম্যালিডিডু ও সিকিউর) গ্রুপের ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় স্প্রে করতে হবে। তিনি আরো বলেন, যদি ক্ষেতে নাভিধ্বসা রোগ দেখা দেয় তবে ক্ষেতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা যাবে না। পাশাপাশি ক্ষেতে সপ্তাহ খানেকের জন্য সেচ বন্ধ রাখতে হবে।

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech