স্বস্তির বৃষ্টিতে আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক

  13-08-2023 03:52PM

পিএনএস ডেস্ক : ভরা বর্ষায়ও দেখা মেলেনি বৃষ্টির। এতে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন আমন ও পাট চাষিরা। কারণ আমন চাষ বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। আর পাট জাগও নির্ভর করে বর্ষার পানির উপর। তারা ধরেই নিয়েছিলেন এ বছর ফসলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। তবে গত এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের কৃষকদের স্বস্তি ফিরেছে। খাল-বিলে দেখা মিলছে পানির, আর চাষিদের ব্যস্ত সময় কাটছে জমি ও আমনের বীজতলা তৈরিতে।

জানা যায়, উপজেলা সদর, বুড়িশ্বর, পূর্বভাগ, হরিপুর, চাপড়তলা, ধরমন্ডল, গোকর্ণ, কুন্ডা ও গুনিয়াউক ইউনিয়নের জমিগুলো খালি পড়ে আছে। আমন চাষের ভরা মৌসুমেও সেচ সংকটের কারণে অনেকেই এখনো ধান রোপণ করতে পারেনি। সম্প্রতি এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টির ফলে খালবিল পানিতে ভরে উঠেছে। জমিতে চলছে হাল চাষ, সেচ দেওয়া, বীজতলা তৈরির ধুম।

নাসিরনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর প্রায় সাত হাজার হেক্টর আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে বীজতলা আড়াইশ হেক্টর। মাসের পর মাস খরার কারণে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন।


উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের তিলপাড়া গ্রামের কৃষক সুনিল সরকার বলেন, ‘মনে মনে ভাবছিলাম এই বছর আর ক্ষেত করতাম না। মাসের পর মাস বৃষ্টি নাই। কিন্তু হঠাৎ কইরাই কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হওনে জমিত আইলাম। আইজকা ক্ষেতের ঘাস পরিষ্কার করতাছি। কাল আইসা বীজতলা ছিটাই যামু।’

ধরমন্ডল ইউনিয়নের কৃষক ইকবাল মিয়া বলেন, ‘দশ দিন আগেও জমি চাষ করুম এই চিন্তা ছিল না। কিন্তু টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে খালে পানি আইছে। জমিতেও মেলা পানি জমছে। এখন ধানের চারা আইন্যা লাগামু। আর কিছুদিন এইভাবে বৃষ্টি হইলে এই বার ধান ভালই ফলন অইব।’

কৃষক মোহন লাল বলেন, সেচ খরচ, সারের দাম ও শ্রমিকের খরচ দিয়ে এক বিঘা আমন ধান ঘরে তুলতে খরচ পড়বে প্রায় ২৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে বৃষ্টি নেই। অল্প কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বীজতলা রোপণ করতেছি ঠিকই। কিন্তু নতুন করে বৃষ্টি না হলে প্রতি বিঘাতে ৬-৭ হাজার টাকা লোকসান হবে। গত বছরের চেয়ে ডিজেলের দাম বাড়নের কারণে সেচের খরচও বেশি। সার আর শ্রমিকের দাম আরো চড়া।

নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, বেশ কিছুদিন বৃষ্টি না হওয়ায় এবং বর্ষার পানি না আসায় আমনের বীজতলা তৈরি নিয়ে কৃষকের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টির কারণে কৃষক এখন তাদের জমিতে বীজতলা তৈরি করতে পাড়ছে। এই বীজতলা যেন আদর্শ বীজতলা হয়, সেজন্য আমাদের কৃষি অফিস থেকে প্রতিনিয়ত কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পিএনএস/ আল আমিন

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন