পিএনএস ডেস্ক: গাজীপুরের কালীগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর বুকে এখন আর আগের মতো দেশি মাছের ঝাঁক দেখা যায় না। জেলেদের জালে রুই, কাতলা বা টেংরার বদলে উঠছে কাঁটাওয়ালা ও ভয়ংকর আকৃতির সাকার ফিশ। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি এখন নদীর নতুন আতঙ্ক।
জেলেরা জানান, নদীতে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে উঠে আসছে এই ক্ষতিকর মাছ। কখনো কখনো হাত দিয়েও ধরা যাচ্ছে, আবার এর ধারালো কাঁটায় আহতও হচ্ছেন জেলেরা। নদীর তীরে বসে কেউ কেউ মাছগুলো বিক্রির চেষ্টা করলেও ক্রেতার দেখা মেলে খুব কম।
শীতলক্ষ্যা নদীতে নিয়মিত মাছ ধরেন লিটন মিয়া। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “শিল্পকারখানার বর্জ্যে নদীর পানি নষ্ট হয়ে গেছে। আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। গত এক সপ্তাহ ধরে অন্য মাছের আশায় জাল ফেললেও প্রতিদিন ৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত সাকার ফিশ উঠছে। এই মাছ কেউ কিনতে চায় না।”
ভাদার্ত্তী দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইফুর রহমান বলেন, “সাকার ফিশ ছোট মাছ ও তাদের ডিম খেয়ে ফেলে। এটা সত্যিই রাক্ষুসে মাছ। জেলেদের বেশি বেশি এই মাছ ধরতে উৎসাহ দেওয়া উচিত।”
একই গ্রামের আল আমিন সরকার সুমন বলেন, “মাছটির চেহারা যেমন ভয়ংকর, তেমনি এর প্রভাবও ভয়াবহ। শীতলক্ষ্যার ছোট মাছ এখন প্রায় হারিয়েই গেছে।”
মনির হোসেনের ভাষায়, “নদীর পানি দূষণে এমনিতেই মাছ কমে গেছে। তার ওপর এই সাকার ফিশ অন্য মাছ ধ্বংস করছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে শীতলক্ষ্যার দেশি মাছ হয়তো একদিন গল্প হয়ে যাবে।”
কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সামা বলেন, “সাকার ফিশ খাওয়ার উপযোগী নয়। এটি বিদেশি আগ্রাসী প্রজাতি। নদীর অন্যান্য মাছের খাদ্য, ডিম ও জলজ উপাদান খেয়ে ফেলে। ফলে আমাদের জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “এই মাছ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কার্যকরভাবে দমন করা এখনো সম্ভব হয়নি।”
পিএনএস/এমএইউ
শীতলক্ষ্যায় সাকার ফিশের দাপট, হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতি মাছ
25-06-2026 11:18AM

