হলফনামায় উল্লেখ নেই ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’

  21-07-2026 11:48PM

পিএনএস ডেস্ক: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও (সিসিটিভি ফুটেজ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ভিডিওটি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি বলে জামায়াতে ইসলামীর মিডিয়া সেল থেকে দাবি করা হলেও তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল লেন্স‘ ভিডিওটিকে আসল বলে চিহ্নিত করেছে।

অন্যদিকে, ছড়িয়ে পড়া ওই সিসিটিভি ফুটেজে ২০২৩ সালের ১ জুলাইয়ের সময় দেখতে পাওয়া গেলেও সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের দাবি, চলতি বছরের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে ও প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে ওই তরুণীকে বিয়ে করেছেন তিনি।

এমপি ভিডিওর ওই তরুণীকে নিজের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী‘ বলে দাবি করলেও ২০২৬ সালের নির্বাচনি হলফনামায় এ বিয়ের কোনো উল্লেখ ছিল না, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়াকে ব্ল্যাকমেইলিং এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন ওই সংসদ সদস্য।

গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একাধিক ভিডিও ফেসবুকসহ নানা প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। এতে একটি কক্ষে এমপি গাজী নজরুলকে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল পরিচালিত ‘ক্রাইম বার্তা‘ দাবি করে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ও বিকৃত ভিডিও।

তবে, তথ্য যাচাইকারী স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল লেন্স’ জানায়, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি এআই বা এডিটেড নয়, এটি আসল। প্রতিষ্ঠানটির অনুসন্ধানে সিসিটিভি ফুটেজের সময় উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৩ সালের ১ জুলাই। তবে, ফুটেজটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে স্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান বলেছেন, “ভিডিওটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে, তিনি উনার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে হয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে হলেও তার পরিবার বর্তমানে ঢাকায় থাকে।”

বিয়ে কবে হয়েছে, জানতে চাইলে এই নেতা নির্দিষ্ট তারিখ বলতে পারেননি। তিনি জানান, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ‘বেশ কিছুদিন আগে’ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে হলে এত আগের ভিডিও কীভাবে এলো, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ভিডিওর বিষয়টি টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ দিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জমা দেওয়া গাজী নজরুলের নির্বাচনি হলফনামায় দ্বিতীয় স্ত্রীর বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ ছিল না, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তবে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে গাজী নজরুল বলেন, “গত ১৭ জুন, ২০২৬ তারিখে পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়াম বেগমের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। গত ১৩ জুলাই ঢাকার মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক অফিসে প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আমরা যাই। সেখানে অবস্থানকালে জোহরের নামাজের আগে আমার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে গিয়ে ৫-৭ জন অপরিচিত লোককে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে ১ লাখ টাকা আদায় করে।”

এমপি অভিযোগ করেন, ভাড়া করা গাড়ি আটকে রেখে পরবর্তী সময়ে কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয় মুহূর্তের ভিডিও চিত্র ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

তিনি একে পারিবারিক বিরোধের জের এবং সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


পিএনএস/রাআ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন