পিএনএস ডেস্ক: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষণা করা দেশের ৫৫তম বাজেটে শিক্ষা খাতের তিন বিভাগের জন্য ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৬ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এ অর্থবছরে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি ৯২ টাকা। এ খাতে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ২৯৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৪৪০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এ বিভাগের পরিচালন ব্যয় ৩২ হাজার ৮৬৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ২৪ হাজার ৪৩৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৪৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা। এ খাতে পরিচালন ব্যয় ১১ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ৬ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার ৬৭৮ হাজার কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। তার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
বিশাল এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।
পিএনএস/এএ
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়লো ৩৬ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা
11-06-2026 06:16PM

