পিএনএস ডেস্ক: দেশের বন্ধ ও আংশিক সচল শিল্প-সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদন ও কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে ২০ হাজার কোটি টাকার ‘বন্ধ শিল্প ও সেবাখাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৩ জারি করা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যে বেসরকারি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মন্থর অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এবং প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ কর্মসংস্থান বাড়াতে বন্ধ ও উৎপাদন সক্ষম শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় চালু করা জরুরি। এ লক্ষ্যেই ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সহায়তা দিতে ২০ হাজার কোটি টাকার এ প্রাক-অর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছে।
স্কিমের আওতায় বৃহৎ শিল্প ও সেবাখাতের সম্পূর্ণ বন্ধ কিন্তু পুনরায় চালুর সক্ষমতা রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান এবং আংশিক সচল হলেও পর্যাপ্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন বা সেবা দিতে পারছে না এমন প্রতিষ্ঠান ঋণ সুবিধা পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংককে ৪ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে অর্থ দেবে। ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে গ্রাহক পর্যায়ে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ বিতরণ করতে পারবে। ঋণ বিতরণের পর প্রথম ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড থাকবে।
সার্কুলার অনুযায়ী, রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ প্রদানে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ বা ভাড়া নিয়ে চালু করলে তারাও অগ্রাধিকার পাবে।
তবে ঋণ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা, ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের প্রয়োজনীয়তা, বন্ধ হওয়ার কারণ এবং সম্ভাব্য ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা বিস্তারিতভাবে যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা যাবে।
সিআইবি-তে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ঋণগ্রহীতা, অর্থপাচার, জালিয়াতি, ফান্ড ডাইভারসন বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবে না।
স্কিমের অর্থ শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল, কাঁচামাল সংগ্রহ, রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য উৎপাদন ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে। তবে বিদ্যমান কোনো ঋণ সমন্বয় বা পরিশোধে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ এ স্কিমের আওতায় এক সময়ে ২০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ সুবিধা নিতে পারবে না। প্রতিটি ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর, যা প্রয়োজন অনুযায়ী নবায়নের সুযোগ থাকবে। তিন বছর মেয়াদি আবর্তনযোগ্য (রিভলভিং) এ স্কিম বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩ পরিচালনা করবে।
প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করতে ব্যাংকগুলোকে ঋণ মঞ্জুরিপত্র, হালনাগাদ সিআইবি রিপোর্ট, উৎপাদন সক্ষমতা মূল্যায়ন প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের প্রত্যয়নপত্র (যদি থাকে) এবং গ্রাহকের ঘোষণাপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক যাচাই-বাছাই শেষে প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করবে। তবে কোনো ঋণ স্কিমের জন্য উপযুক্ত বিবেচিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব অর্থায়নে তা পরিচালনা করতে পারবে।
সার্কুলার অনুযায়ী, ঋণ আদায় ও তদারকির সম্পূর্ণ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর থাকবে। গ্রাহক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিক্রয় প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং কারখানা পরিদর্শন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, স্কিমের আওতায় বিতরণ করা ঋণ যে কোনো সময় সরেজমিনে যাচাই করা হতে পারে। ঋণের অপব্যবহার, জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান বা খেলাপি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তথ্য সরকারি সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হবে।
এছাড়া স্কিমের আওতায় অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ অবদান রাখা ঋণগ্রহীতা ও ব্যাংকগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা দেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পিএনএস/রাআ
বন্ধ শিল্প-সেবা প্রতিষ্ঠান চালুতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন
05-06-2026 12:00AM

