পিএনএস ডেস্ক: ইরানের হামলায় কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও সমুদ্রের লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মরুপ্রধান দেশটির নিরাপদ পানির সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবারের (১৭ জুলাই) হামলায় কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। হামলায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের একাধিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখানে আগুন ধরে যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শুষ্ক দেশ কুয়েতে পানযোগ্য পানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধ করার মাধ্যমে। ওমানে এই হার প্রায় ৮৬ শতাংশ এবং সৌদি আরবে প্রায় ৭০ শতাংশ।
ডিস্যালিনেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ অপসারণ করে পানযোগ্য করা হয়। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো রিভার্স অসমোসিস, যেখানে অতিসূক্ষ্ম ঝিল্লির মাধ্যমে লবণ আলাদা করা হয়।
পারস্য উপসাগর উপকূলজুড়ে শত শত ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে। ফলে এসব স্থাপনা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এসব প্ল্যান্ট অচল হয়ে পড়লে উপসাগরীয় অঞ্চলের বড় শহরগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও নিরাপদ পানির সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাবে এতদিন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা গেলেও, কুয়েতের এই হামলা দেখিয়ে দিল যে যুদ্ধের প্রভাব শুধু তেল-গ্যাস নয়, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপদ পানির সরবরাহ ব্যবস্থাকেও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
সূত্র: এপি
পিএনএস/এএ
ইরানের হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত
17-07-2026 09:55PM

