অনলাইনে হাজিরা দিতে প্রধান শিক্ষক গাছে

  16-06-2026 02:39AM

পিএনএস ডেস্ক: সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এখন অনলাইনে হাজিরা নিশ্চিত করতে হয়। সে কর্তব্য পালন করতেই গাছে উঠতে বাধ্য হলেন রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের। এ ঘটনার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়।

‎ছড়িয়ে পড়া সেই ছবিতে দেখা যায়, একটি আম গাছের ডালে উঠে মোবাইল নেটওয়ার্কের সাহায্যে অনলাইনে হাজিরা পাঠাচ্ছেন তিনি। মূলত, মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক না পাওয়ায় এমন কাণ্ড ঘটাতে হয় সেই শিক্ষককে।

আবু তাহের জানালেন, ‎প্রথম দিনেই নেটওয়ার্ক সমস্যার মুখে পড়েছেন তিনি। তার কথায়, স্কুলে এসে হাজিরা খাতার ছবি তুলে প্রথমে ভবনের ছাদে উঠেছিলাম। সেখানে নেটওয়ার্ক না পেয়ে পাহাড়ের ওপর উঠি। সেখানেও নেটওয়ার্ক না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি আম গাছের ডালে উঠে নেটওয়ার্ক পাই। পরে সেখান থেকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে হাজিরা খাতার ছবি পাঠাই।

‎সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯ টার মধ্যে শিক্ষকদের হাজিরা খাতার ছবি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। সোমবার (১৫ জুন) থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

‎বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয়ের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ২৮ টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি। যেসব এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক রয়েছে সেখানকার বিদ্যালয়গুলো অনলাইনে তথ্য পাঠিয়েছে।

‎রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন বলেন, আপাতত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে হাজিরার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেসব বিদ্যালয়ে নেটওয়ার্ক নেই সেগুলোর তথ্য বিকল্প উপায়ে সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

‎জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, রাঙামাটির ৭০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৫৩৮ বিদ্যালয়ের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় ১৭০টি বিদ্যালয়ের হাজিরা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

‎রাঙামাটির সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি উপজেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দুই পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচে বিদ্যালয়টির অবস্থান হওয়ায় সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্কের সংকট দীর্ঘদিনের।


পিএনএস/রাআ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন