নানা সমস্যায় জর্জরিত ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র

  16-06-2026 06:33PM

পিএনএস, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ৮ নম্বর ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, অযত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে। স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত সংকট ও জনবল ঘাটতির কারণে এলাকার হাজারো মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রটিতে বর্তমানে মাত্র একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কর্মরত রয়েছেন। তিনিও সপ্তাহে মাত্র তিন দিন সেবা প্রদান করেন। অন্যদিকে, কর্মরত পরিদর্শিকা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আরও সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে গর্ভবতী নারী, শিশু ও সাধারণ রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা গ্রহণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চাপানি হাটের পানি নিষ্কাশনের পথ হিসেবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কেন্দ্রসংলগ্ন পুকুরে পানি জমে দুই স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুকুরপাড় ধসে পড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি গাছ উপড়ে গেছে। কেন্দ্রের চারপাশ ঝোপঝাড় ও আগাছায় ছেয়ে যাওয়ায় এটি অনেকটাই পরিত্যক্ত প্রতিষ্ঠানের চিত্র ধারণ করেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কেন্দ্রে প্রবেশের একমাত্র সড়কের দুই স্থানে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও অসুস্থ রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কেন্দ্রটির সাইনবোর্ডও দীর্ঘদিন ধরে উল্টে পড়ে রয়েছে। পাশাপাশি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ এ এলাকার মানুষের জন্য বিকল্প স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে এই কেন্দ্রের ওপরই নির্ভরশীল।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকরামুল হক চৌধুরী বলেন, “পানি চলাচলের জন্য যারা পথ কেটেছে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়ক সংস্কার, গর্ত ভরাট, পুকুরপাড় সংরক্ষণ, আগাছা পরিষ্কার এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক। তাদের মতে, একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানকে অবহেলার কারণে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপই পারে এলাকার হাজারো মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অধিকার নিশ্চিত করতে।

পিএনএস/এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন