পিএনএস ডেস্ক: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজের পরদিন শিশুর (৭) মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা সন্দেহভাজন অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাখেতের গর্ত থেকে মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এর আগে, সোমবার বিকেল থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। নিহত শিশুটির নাম নন্দিনী রানী। সে ওই এলাকার সাধারণ কৃষক নলিনী কান্তের মেয়ে। শিশুটি স্থানীয় একটি ব্র্যাক স্কুলের প্রথম শ্রেণিতে পড়ত।
এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তেজিত এলাকাবাসী ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে খেলার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি ওই শিশু। পরিবারের সদস্যরা রাতভর সম্ভাব্য সকল স্থানে খুঁজেও তার হদিশ পাননি। মঙ্গলবার ভোরের দিকে গ্রামের একটি ভুট্টাখেতের কিছু গাছ ভাঙা দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর তল্লাশি চালিয়ে একটি সদ্য খোঁড়া গর্তের সন্ধান মেলে। সেখানে মাটির নিচে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির নিথর দেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা প্রতিবেশী বিধান চন্দ্রের (২৩) বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে কয়েকটি ঘর ও মালামাল পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও স্থানীয়রা অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও করে রাখে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলেও উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) বহনকারী গাড়িসহ পুলিশের কয়েকটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে। স্থানীয় সাংবাদিকদেরও ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়। এতে পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, নিখোঁজের ঘটনায় আগের দিন জিডি গ্রহণ না করার অভিযোগে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এরপর আগুনে পোড়া বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকা অভিযুক্তের স্বজনদের উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
শিশুটির বাবা বলেন, ‘গ্রামে কারও সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। খুব সাধারণ জীবনযাপন করি। সোমবার দুপুরেও মেয়ের সঙ্গে ভাত খেয়েছি। ছোট্ট মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
শিশুটির মা বলেন, ‘বাড়ির পাশেই অনেকগুলো ভুট্টাখেত। হয়ত মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে আটকে রেখে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এরপর তাকে হত্যা করেছে।’
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পিএনএস/এএ
লালমনিরহাটে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৩০
16-06-2026 08:25PM

