পিএনএস ডেস্ক: জাল সনদে চাকরি নিয়ে বৈধ সনদের জন্য চাকরির এক যুগ পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন সালেহা খাতুন শিখা নামে এক লাইব্রেরিয়ান।
জামালপুরের মেলান্দহের হাজরাবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান শিখার বিরুদ্ধে এ চাঞ্চল্যকর অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনা স্বীকারও করেছেন অভিযুক্ত ওই লাইব্রেরিয়ান।
জানা গেছে, জামালপুরের বেসরকারি ব্রহ্মপুত্র ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫ সালের সামার সেশনে লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট এবং ইনফরমেশন সায়েন্সে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন সালেহা খাতুন শিখা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা নিবিড় আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে লাইব্রেরিয়ান শিখার বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানিয়েছেন, শিখা অননুমোদিত বিলুপ্ত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে একটি জাল সনদে ২০১৪ সালে লাইব্রেরিয়ান পদে চাকরি নিয়েছেন। ওই সময় মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে চাকরি নিয়েছেন বলে জানান ওই শিক্ষক। এরপর বিভিন্ন নিরীক্ষায় ঘুষ দিয়ে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের ম্যানেজ করে চাকরি রক্ষা করে চলেছেন অভিযুক্ত শিখা।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিখার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, সঠিক কাগজপত্র যেন জমা দেওয়া হয় সেজন্য তিনি এতদিন পরে এসে লাইব্রেরি কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। শিক্ষা অধিদপ্তর এ সুযোগ দিয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু আমি না, আমার মতো এরকম আরও কিছু লাইব্রেরিয়ান আছে। তাদের নাম জানতে চাইলে তিনি নাম বলেননি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমতিপত্র আছে কিনা জানতে চাইলেও তিনি তা দেখাতে পারেননি। এদিকে এ কোর্সে ভর্তি হয়ে ক্লাস কিংবা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের কোনো অনুমতিও নেই। নেই কোনো ছুটির তথ্যও।
বিদ্যালয়ের চাকরি করে শিখা কীভাবে ক্লাস কিংবা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন জানতে চাইলে হাজরাবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোকশানা বেগম বলেন, একবেলা স্কুলে থেকে বিভিন্ন প্রয়োজন দেখিয়ে মৌখিক ছুটি নিয়ে বাড়িতে গেছে। কোন কোর্সের জন্য কোথায় গেছে তা আমার জানা নেই। তাছাড়া এভাবে আমার অনুমতি দেয়ারও সুযোগ নেই।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ বিভাগের বিদ্যালয় শাখার ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নাসির উদ্দীন বলেন, জাল সনদে চাকরি নিয়ে পরবর্তীতে বৈধ সনদ অর্জন করে তা জমা দেওয়ার সুযোগ নেই। এ ঘটনার সত্যতা মিললে ওই লাইব্রেরিয়ানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিএনএস/এমএইউ
অবৈধ সনদে চাকরির পর বৈধ সনদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি!
29-06-2026 02:25PM

