পিএনএস ডেস্ক: ফেনীর ছাগলনাইয়ার ঘোপালে জোবায়ের হোসেন পারভেজ (৩২) নামের এক যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৭ জুন) রাত ৮টার দিকে ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের এ তথ্য জানান।
এর আগে সকালে উপজেলার নিজকুঞ্জরা গ্রামের নুর আহাম্মদ মাস্টার বাড়ি এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত জোবায়ের ওই গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। আটকরা হলেন প্রধান অভিযুক্ত শাহাদাত ও তার সহযোগী মাইকেল।
পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত জোবায়ের হোসেন পারভেজের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৫টি মামলা রয়েছে। একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা ছিল। সবশেষ এক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে প্রায় দুই বছর কারাভোগ শেষে মুক্তি পান পারভেজ।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মামুনের বিরুদ্ধেও মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগে থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর একাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে পারভেজ ও মামুন দীর্ঘদিন ফেনী কারাগারে ছিলেন। ওই সময়ে নানা ধরনের ব্যয় পারভেজ বহন করলেও মামুন কোনো টাকা দেননি। দুজন কারাগার থেকে মুক্তির পর স্থানীয় একটি দোকান নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।
নিহতের ছোট ভাই সাব্বির হাসান শীতল বলেন, ‘শুক্রবার (২৬ জুন) পারভেজ তার দোকানে কাজের জন্য শাহাদাত ও মামুনের এক ছোট ভাইকে প্রস্তাব দেন এবং তাকে একটি মোবাইল ফোন দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামুন তার ছোট ভাইকে মারধর করেন। পরে রাত ১২টার দিকে মোবাইল দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে পারভেজের সঙ্গে মামুনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পারভেজের হাতে থাকা চার্জলাইটের আঘাতে মামুন আহত হন।’
নিহতের বাবা আবু তাহের জানান, রাত ২টার পর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পাশে পুকুর সংলগ্ন এলাকায় ওত পেতে থাকা মামুন ও শাহাদাত ধারালো অস্ত্র দিয়ে পারভেজকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। সকালে স্থানীয়রা বাড়ির রাস্তা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।’
ছাগলনাইয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা পারভেজের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পাশাপাশি মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
পিএনএস/রাআ
ফেনীতে যুবলীগ কর্মীকে হত্যার ঘটনায় আটক ২
28-06-2026 02:23AM

