পিএনএস ডেস্ক : বাসার দরজা খোলা, দাঁড়িয়ে কাঁদছে দুটি শিশু আর সামনে সিলিংফ্যানে ঝুলছে মায়ের লাশ। বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগরের গুনিয়াউক ইউনিয়নের একটি ভাড়া বাসা থেকে সিনিয়র স্টাফ নার্স লাকি আখতারের (৩০) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মৃত লাকি আখতার উপজেলার গুনিয়াউক ১০ শয্যাবিশিষ্ট পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্মরত ছিলেন। তিনি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার রামনকুমার গ্রামের মো. সামসুল হুদার মেয়ে। উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের সুবল মিয়ার বাড়িতে দুই সন্তানসহ ভাড়া থাকতেন তিনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাকির স্বামী শরীফ আহমেদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায়। ২০১৯ সালে শরীফের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে লাকি গুনিয়াউক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি ওই ইউনিয়নের সুবল মিয়ার বাড়িতে দুই সন্তানসহ ভাড়া থাকতেন। দুইদিন আগে নিহতের স্বামী শরীফ লাকির বাসায় আসেন।
শরীফ আহমেদ জানান, বুধবার সকাল ১১টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হন। দুপুর ১টার দিকে স্ত্রীকে ফোনে না পেয়ে বাড়ির মালিককে খোঁজ নিতে অনুরোধ করেন তিনি। বাড়ির মালিক সুবল মিয়া ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা খোলা অবস্থায় দুই শিশুকে কাঁদতে দেখেন এবং ভেতরের ঘরে সিলিংফ্যানের হুকের সঙ্গে লাকির নিথর দেহ ঝুলতে দেখেন।
বাড়ির মালিক সুবল মিয়া জানান, লাকির স্বামী শরীফ আমাকে দুপুরে ফোন করে বলেন তার স্ত্রী ফোন ধরছেন না। আমি বাসার উপরে গিয়ে দেখি দরজা খোলা এবং বাচ্চা দুটি মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। ভেতরে উঁকি দিতেই দেখি লাকি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন। পরে আমি পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
লাকির সহকর্মীরা জানান, বুধবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিজের দায়িত্ব পালন করেন লাকি। এরপর বাসায় ফিরে বিকেলের কোনো এক সময় তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লাকির স্বামী শরীফ আহমেদ বলেন, আমার সঙ্গে আমার স্ত্রীর কোনও মতবিরোধ বা পারিবারিক কলহ ছিল না। খুবই ভালো সম্পর্ক ছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন নোমান মিয়া বলেন, আমাদের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স আত্মহত্যা করেছেন বলে জেনেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে এমনটি ঘটে থাকতে পারে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ রাত সাড়ে আটটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অদিতি রায় সহকর্মীর এমন মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
পিএনএস /এএ
ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে মায়ের লাশ,পাশে কাঁদছে ২ শিশু
02-07-2026 09:08PM

