মনু নদীর বাঁধ ভেঙে ৩০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ

  10-07-2026 08:21PM

পিএনএস ডেস্ক: মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলায় মনু নদীর বাঁধ ভেঙে চারটি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নদী ভাঙনে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। স্রোতের টানে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক বৃদ্ধ।

জেলাজুড়ে শুক্রবার সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। গত তিন দিনে জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ২০২ মিলিমিটার। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে আরও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর চাঁদনীঘাট অংশে বিপৎসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। এছাড়া ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

একামধু গ্রামের মকদ্দুস মিয়া ও গিয়াস মিয়া জানান, ‘বাড়িতে পানি ওঠায় আমরা মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। ছেলে সন্তানদের নিয়ে থাকার জায়গা না থাকায় এখানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলাম।

এদিকে গতরাতে মনু নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙনে বাড়ির সামনের রিং বাঁধ ভেঙে গেলে স্রোতের টানে পড়ে প্রাণ হারান ৭০ বয়সী আশরাফ আলী আসই। তিনি রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাঁধ ভাঙার পর তিনি নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এরপর থেকে তাকে পরিবারের সদস্যরা আর খুঁজে পায়নি। সকালে বানের পানিতে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। আজ সকালে তার মরদেহ বাড়ির পাশে পানির স্রোতে ভেসে যেতে দেখা যায়। স্থানীয়রা মরদেহটি শনাক্ত করে নিহতের পরিবারকে জানান।

এ বিষয়ে টেংরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, ‘বানের পানিতে ডুবে বৃদ্ধ আশরাফ আলীর মৃত্যু হয়েছে। রাস্তাঘাট জলমগ্ন থাকায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।’রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভুইঁয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বৃদ্ধ লোক হয়তো অসাবধানতার কারণে পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়।’

এদিকে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে পাশের জেলা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় সুরমা নদীর পানির উচ্চতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমাসহ পার্শ্ববর্তী নদনদীর পানি আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী (প্রয়োজনে), পুলিশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলার মোট ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিন নদ-নদীর পানি পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

পিএনএস/এএ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন