পিএনএস ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফুটবল মঞ্চে আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষী হলো বিশ্ব। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’তে চেকিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ পরিচালনা করে ইতিহাস গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন নারী রেফারি—প্রধান রেফারি টোরি পেনসো এবং সহকারী রেফারি ব্রুক মায়ো ও ক্যাথরিন নেসবিট। তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
তবে এটিই প্রথম অল-উইমেন রেফারিং দল নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ফরাসি রেফারি স্টেফানি ফ্রাপার্ট, ব্রাজিলের নেউজা ব্যাক এবং মেক্সিকোর কারেন দিয়াজের সমন্বয়ে একটি সম্পূর্ণ নারী রেফারিং দল জার্মানি-কোস্টারিকা ম্যাচ পরিচালনা করে ইতিহাস গড়েছিল। সেই পথ ধরেই চার বছর পর আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল নারী রেফারিং।
এই ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে টোরি পেনসো পুরুষদের বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করা ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় নারী প্রধান রেফারি হলেন। একই সঙ্গে তিনি প্রথম মার্কিন নারী, যিনি পুরুষদের বিশ্বকাপে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করলেন।
যে পথ পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে
ফ্লোরিডায় বেড়ে ওঠা টোরি পেনসো মাত্র ১৪ বছর বয়সে রেফারিং শুরু করেন। পরে মার্কেটিংয়ে পড়াশোনা শেষ করে বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজও করেছেন। কিন্তু ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তাকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনে।
২০২০ সালে তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় পর মেজর লিগ সকারে ম্যাচ পরিচালনা করা প্রথম নারী রেফারি হন। ২০২১ সালে প্রথম নারী হিসেবে পুরুষদের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ পরিচালনা করেন। এরপর ২০২৩ নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন ও ইংল্যান্ডের ম্যাচে বাঁশি বাজিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ান। ২০২৫ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
পেনসো তিন সন্তানের জননী। পারিবারিক জীবন ও আন্তর্জাতিক রেফারিং—দুই দায়িত্বই সমান দক্ষতায় সামলানোর জন্য তিনি নারী ক্রীড়াঙ্গনের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
এই ম্যাচের পর ফুটবল মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে পেনসো, মায়ো ও নেসবিটের পারফরম্যান্স। ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা আগেই বলেছিলেন, ‘নারী ম্যাচ কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রমাণ করে, ফিফার কাছে যোগ্যতাই একমাত্র মানদণ্ড।’ তার মতে, নারী রেফারিংয়ের বিকাশে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমর্থকদের প্রশংসা ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই লিখেছেন, পেনসো ম্যাচটি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরিচালনা করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সঠিকভাবে নিয়েছেন এবং খেলার গতি অযথা নষ্ট করেননি। কেউ কেউ তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা রেফারিদের একজন বলেও মন্তব্য করেছেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে নারী রেফারিদের এই ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা প্রমাণ করছে, ফুটবলে দক্ষতার কোনো লিঙ্গ নেই। যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিচয়।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে রেফারি পেনসোর ইতিহাস গড়া এই ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় চেকিয়া। ষষ্ঠ মিনিটে অ্যাডাম হ্লোজেকের বাড়ানো বল থেকে গোল করেন মিখাল সাদিলেক। মাত্র ৫ মিনিট ৮ সেকেন্ডে করা এই গোলটি চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়ে।
প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত জয় পায়নি চেকিয়া। ৮৩ মিনিটে তেবোহো মোকোয়েনা পেনাল্টি থেকে গোল করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সমতায় ফেরান। ১-১ ড্রয়ে শেষ হওয়া ম্যাচে দুদলই নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করে।
পিএনএস/এমএইউ
বিশ্বকাপ ফুটবলে নারী রেফারিদের নতুন ইতিহাস
20-06-2026 03:30PM

