গণপূর্ত অধিদপ্তরে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে চেকের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনঃ কোটেশন বাণিজ্য চলছে প্রকাশ্যেইঃ দেখার কেউ নেই- (পর্ব-১)

  30-09-2020 06:20PM

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : বালিশ কাণ্ড। পর্দা কেলেংকারীসহ অসংখ্য দুর্নীতির খবরে ব্যাপক সমালোচনা যখন আকাশ ছুয়েছে ঠিক তখনই গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক শীর্ষ প্রকৌশলী স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে চেকের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০ কোটি টাকা লেনদেনের এহেন খবর পত্র-পত্রিকার প্রকাশিত হলেও দায়ী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কারো কেশাগ্র স্পর্শ করেনি কেউ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কোন ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। এই ঘটনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রেরিত অভিযোগের নিস্পত্তি হয়েছে কিনা তাও জানা যায়নি। সূচনায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং কয়েকটি সংস্থা তদন্ত শুরু করলেও এখন সেই নথি ধামাচাপা পড়েছে বলে প্রচারণা রয়েছে। স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে চেকের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের জন্য যে শীর্ষ কর্মকর্তা অভিযুক্ত তার সাথে সংশ্লিষ্টদের আপোষ মীমাংসা হয়ে গেছে মর্মে অনেকে বলে বেড়াচ্ছেন। অভিযুক্ত এই কর্মকর্তা রংপুর জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থাকাকালে ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল মর্মে দুর্নীতির মহাকাব্য রচনা করে সংশ্লিষ্টরা তা বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেছিল। দুর্নীতির সেই অভিযোগগুলোও ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীদের মতে, অভিযুক্ত এই শীর্ষ কর্মকর্তা সদর দপ্তরে যোগদানের পরপরই গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৪টি চিহ্নিত সার্কেলের ১১টি ডিভিশনে ব্যাপক হারে কোটেশন বাণিজ্য চলছে। নাম মাত্র কাজ করে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করলেও দুর্নীতিবাজ শীর্ষ কর্মকর্তা তার সাগরেদদের থামানোর চেষ্টা পর্যন্ত করেননি। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে দুর্নীতিগ্রস্থ ডিভিশনের অপকর্ম নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধারাবাহিক ভাবে লিখলেও রসদের ঘাটতি হবে না।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে একটি তদন্ত সেল গঠন করে তদন্ত না করলে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, দুদক, এনএসআই, ডিজিএফআই এবং অন্যান্য সংস্থার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। (চলবে)

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন