পিএনএস ডেস্ক: কাজের ফাঁকে ফাঁকে ফোন হাতে নেন ভিনসেন্ট। তবে বন্ধু বা সহকর্মীর বার্তা দেখার জন্য নয়, তিনি দেখেন তার ‘ভার্চুয়াল মা-বাবার’ নতুন ভিডিও।
পর্দার ওপারে থাকা এক মধ্যবয়সী দম্পতি প্রতিদিন হাজারো তরুণকে স্নেহভরা কথায় সাহস জোগান। আর সেই কারণেই দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই নতুন প্রবণতা। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভার্চুয়াল মা-বাবা’ নামে পরিচিত একদল কনটেন্ট নির্মাতা এখন লাখো তরুণের ভরসার জায়গা। তাদের ভিডিওতে শোনা যায়— ‘কাজের চাপে ক্লান্ত? নিজেকে এতটা কষ্ট দিও না। মা-বাবা জানে, তুমি অনেক কিছু সহ্য করছ।’ এমন কথাতেই যেন খুঁজে পান অনেক তরুণ হারিয়ে যাওয়া মানসিক শান্তি।
সাংহাইয়ের প্রযুক্তিকর্মী ৩৩ বছর বয়সী ভিনসেন্ট বিবিসিকে জানান, তার নিজের বাবা-মা কখনও বলেননি, ‘তুমি যথেষ্ট ভালো’ কিংবা ‘নিজেকে এতটা কষ্ট দিও না।’ বরং প্রতিবার ফোনে কথা বললেই তাকে চাকরি, বিয়ে কিংবা জীবনের নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুনতে হয়। তাই তিনি মানসিক স্বস্তি খুঁজে পান এই ভার্চুয়াল মা-বাবার ভিডিওতে।
এই দম্পতির একজন বিবিসিকে জানান, ছোটবেলায় তিনিও পরিবারের কাছ থেকে উৎসাহ পাননি। তাই নিজের সন্তানের জন্য তিনি ভিন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে চেয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতাই এখন ভিডিওর মাধ্যমে ভাগ করে নিচ্ছেন লাখো মানুষের সঙ্গে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং পরিবারের বাড়তি প্রত্যাশার কারণে চীনের অনেক তরুণ মানসিকভাবে চাপে রয়েছেন। ফলে তারা এমন মানুষের খোঁজ করছেন, যারা বিচার না করে শুধু তাদের কথা শুনবে এবং সাহস দেবে।
অনেকের মতে, এই প্রবণতা শুধু বিনোদন নয়, বরং মানসিক সমর্থনের একটি নতুন মাধ্যম। যদিও কেউ কেউ মনে করেন, এসব ভিডিও এখন বাণিজ্যিকভাবেও তৈরি হচ্ছে। তবু অনেক তরুণের কাছে সামান্য কিছু স্নেহভরা কথাও মানসিক শক্তি জোগায়।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব বাড়লে মানুষ বিকল্প আবেগের আশ্রয় খুঁজে নেয়। আর সেই কারণেই এখন বাস্তবের বদলে পর্দার ওপারের ‘ভার্চুয়াল মা-বাবা’ অনেক তরুণের কাছে হয়ে উঠছেন মানসিক ভরসার নতুন ঠিকানা।
পিএনএস/এমএইউ
মা-বাবার ভালোবাসা না পেয়ে ‘কৃত্রিম মা-বাবার’ কাছে ছুটছেন তরুণরা!
27-06-2026 12:28PM

