পিএনএস (সৈয়দ হাফিজুল ইসলাম) : BF(বয় ফ্রেন্ড), GF(গার্ল ফ্রেন্ড) ও ফ্রেন্ডশিপ এই শব্দগুলোর ব্যবহার বাংলাদেশে সাম্প্রতিক। এই শব্দগুলো ১০ বছর আগেও ছিলো অপ্রতুল। শব্দগুলো যতোই সমাজে স্বাভাবিক হয়েছে, সমাজে ছেলে-মেয়েদের নষ্টামিও তত বেড়েছে। কারণ ঐ শব্দগুলো যতোই সমাজে স্বাভাবিক হচ্ছে ততই বেগানা ছেলে-মেয়েরা ঘনিষ্ট হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে নষ্টামিও বাড়ছে। নষ্টামি বলতে শুধু সেক্সকেই বুঝায় না, নষ্টামিরও অনেক প্রকারভেদ আছে। বয় ফ্রেন্ড-গার্ল ফ্রেন্ড, ছেলে-মেয়েদের ফ্রেন্ডশীপ সম্পর্কের মধ্যে যে আবেগ, ওগুলো ফালতু এবং নষ্টামি ছাড়া আর কিছুই না। এসব রিলেশনে খুব সামান্যতম নষ্টামি হলেও থাকে। কারণ এইসব রিলেশনে just fun এই কথার ছলে বেগানা ছেলে-মেয়েরা বাজে কথাও বলে। আর জিহ্বার অপব্যবহার হলো নষ্টামির প্রথম দরজা। এই কথাটা আমার না, বিশ্ব নবী(সঃ) এর। তিনি আরও বলেছেন, যে জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে আমি তার জান্নাতের জিম্মাদার (গ্যারান্টি) হব। (বুখারি ও মুসলিম)
একটা মেয়ে কখনো একটা ছেলের প্রকৃত বন্ধু হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। কারণ প্রকৃত বন্ধু মানে সেই বন্ধু যে তার বন্ধুর জন্য সব কিছুই(বিপদে-আপদে) করতে যে কোন সময়, যে কোন মুহুর্তে। আর সুখে, দুঃখে হয় সমান ভাগিদার। এরুপ বন্ধুত্ব একটা মেয়ের সাথে হয় না, সম্ভবও না। তবে একটা মেয়ে এরুপ বন্ধুত্ব কেবল মাত্র তার স্বামীর সাথেই করে থাকে। স্বামীর বিপদে-আপদে যে কোন সময় যে কোন মুহুর্তে ওই পুরুষের মেয়ে বন্ধু হিসেবে তার স্ত্রীকেই ঝাঁপিয়ে পরতে দেখা যায়, আর এটাই বাস্তবতা। যা কথিত মেয়েদের সাথে ফ্রেন্ডশিপে হয় না এবং সম্ভবও না।
যা হয় তা হলো হা হা-হি হি করা, হাসি ঠাট্টা করা, গল্প-গুজব করা, সময় পাস করা ইত্যাদি। এরা মূলত ক্ষণিকের সহচর, আর যাই হোক এরা ফ্রেন্ড নয়। এই কথিত আড্ডা-বাজি মেয়ে ফ্রেন্ডদের পুরুষদের দুর্দিনে পাওয়া যাবে না শুধু আড্ডার টেবিল ছাড়া। যেমন ধরুন, আপনার ওই কথিত আড্ডা বাজি মেয়ে ফ্রেন্ড রাত ৩টার সময়ে শুনলো আপনি মূমুর্ষ। এবার আপনিই বলুন সে কি ওই রাতে আপনাকে দেখতে আসবে? বিবাহিত হলে তো সে আসবেই না। হতে পারে বড়জোর পর দিন সকালে আপনাকে দেখতে যাবে। আপনি বেঁচে থাকলে আপনার কথিত মেয়ে ফ্রেন্ডকে দেখতে পারবেন আর মরে গেলে সে আপনার লাশ দেখে চলে যাবে, এই টুকুই! আর আপনার স্ত্রী হলে? সেই রাতেই আপনার সাথে যেভাবেই হোক আপনার সামনে আপনার স্ত্রী হাজির! এবার বলুন কে আপনার প্রকৃত ফ্রেন্ড? আপনার স্ত্রী না ওই বেগানা মেয়ে?
এখন বলেন ওই বেগানা মেয়ের সাথে ফ্রেন্ডশিপ সম্পর্কের মূল স্বার্থ কি? এখানে অনেকে হয়তো বলতে পারেন, বিনা স্বার্থ। আমি এই বিনা স্বার্থ কথাটা অস্বীকার করি। কারণ যে কোন সম্পর্কের মাঝে একটা স্বার্থ থাকে। স্বার্থ ছাড়া কোনই সম্পর্ক সৃষ্টি হয় না। এমনকি মা-বাবার সাথেও যে সন্তানের সম্পর্ক তাও স্বার্থহীন নয়। মা-বাবাও তাদের অপূরণীয় চাহিদা থেকে সন্তানের জন্ম দেন। সব মানুষই চায় বাবা-মা এই ডাক শুনতে। ছেলে-মেয়েদের ভালোবাসা পেতে। তবে এটা ঠিক যে পৃথিবীর সবচেয়ে আপন মা-বাবা। আবার সন্তানরাও মা-বাবার সাথে কোন না কোন স্বার্থের সাথে সন্ধি, আর এই স্বার্থটা খুবই অন্তর্নিহিত এবং সূক্ষ্ম বিষয়। কারণ সমাজে আমরা দেখি অনেক মা-বাবাকে সন্তানদের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখানোর ফলে সন্তানরাও মা-বাবার প্রতি ঐরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়। আবার যদি ছেলে-মেয়ে মা-বাবার অক্ষমকালে তাদের খোঁজ খবর না রাখে, তবে ওই মা-বাবার মুখেই শোনা যায় যে, ‘এতো দিন যাকে বড় করলাম রক্ত পানি কইরা সেই ছেলে বউ পাইয়া আমার খোঁজ খবর নেয় না।’ যদি স্বার্থই না থাকে তবে এই কথা বলবে কেন? তাই অবশ্যই সম্পর্ক স্বার্থের সাথে সম্পর্কিত।
এমনকি আল্লাহর সাথেও বান্দার সম্পর্ক স্বার্থ জনিত। যেমন আল্লাহ-ই বলেছেন, ‘আমি জীন ও মানব জাতিকে কেবল আমার ইবাদাত ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি। (সূরা- আয-জারিয়াহ-৫৬)’ তাহলে এই আয়াতের মাধ্যমে বুঝা যায় আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন যাতে আমরা তাঁর আদেশ-নিষেধ অক্ষরে অক্ষরে পালন করি (যদিও সমস্ত মাখলুখ তাঁর ইবাদাত না করলেও তাঁর কোন ক্ষতি হবে না)। আবার বান্দাও আল্লাহর আদেশ-নিষেধ পালন করে আল্লাহর ভয়ে যাতে নরকে যেতে না হয়। তাহলে এখানেও স্বার্থ! আর এজন্যই আমি আপনার বিনা স্বার্থ কথার সাথে একমত নই।
একজন মেয়ে ফ্রেন্ডশিপ হলে ছেলেটা যখন একটা বিপদে পড়ে তখন ওর বিপদে ঝাঁপিয়ে পরার হিম্মৎ ওই মেয়ে লোকের হয় না। তখন কিন্তু সে নিজেকে মেয়ে মানুষের অজুহাত দিয়েই পিছ পা হয়। কিন্তু ছেলে বন্ধু হলে? সে ঠিকই পারবে ঝাঁপিয়ে পড়তে।
আবার ওই মেয়ে বন্ধুর বিয়ে হয়ে গেলে সে কি ওই ছেলে বন্ধুর সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখতে পারবে আজীবন? রাখলেও সব সময় না, আবার অনেক ক্ষেত্রেই গোপনে রাখতে হবে। আর অমনি তা হবে পরকিয়া। তাহলে কিভাবে একটা মেয়ের সাথে একটা ছেলের বন্ধুত্ব হয়? তাই কোন মেয়ে যদি বলে বন্ধুত্বের সম্পর্ক চিরদিনের, এ কথা মিথ্যা এবং ফালতু কথা। আর পরনারীর সাথে বন্ধুত্ব হওয়াটাই তো হারাম। কারণ দুইজন ছেলে বন্ধু নির্জনে হাটতে পারে, থাকতেও পারে। কিন্তু একটা ছেলে ও একটা মেয়ে বন্ধু হলে নির্জনে তাদের মনের অবস্থা কি একটুও পরিবর্তন হয় না? যদি বলে হয় না, তবে ওরা মিথ্যাবাদী আর নয় হিজরা। তাই বলা যায় স্ত্রীর মতো প্রকৃত বন্ধু কোন মেয়েই হতে পারে না।
এবার আসি গার্ল ফ্রেন্ড সম্পর্ক। এই সম্পর্কটা আরও জঘন্য। বর্তমানে ‘গার্ল ফ্রেন্ড’ শব্দটা ব্যবহার করা হয় মূলত সেক্সচুয়াল শব্দের সাথে সম্পর্কিত করে সেক্সচুয়াল শব্দ উহ্য রেখে। ‘গার্ল ফ্রেন্ড’ এর সাথে কথা বলতে বলতে একটু হলেও তারা অশ্লীল কথা বলে। এমন কোন বয়ফ্রেন্ড-গার্ল ফ্রেন্ড পাওয়া যাবে না যারা এই কাজ না করে। অনেকে রিয়্যাল সেক্সও করে। যা বিয়ে বহির্ভূত হারাম। আর এটা এতো বড় গুনাহের কাজ যে, বিয়ে বহির্ভূত এসব সম্পর্কতে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। এরা জাহান্নামী, জাহান্নামের লাকড়ি। তাই অই অর্থে হালাল ভাবে একজন স্ত্রীই হতে পারে প্রকৃত গার্ল ফ্রেন্ড’।
তাই সত্যিকারের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হলো বিয়ের প্রস্তাব, আর ভালোবাসা হল স্ত্রী। আর প্রেম, ফ্রেন্ডশিপ, গার্ল ফ্রেন্ড করার প্রস্তাব....
সর্বশেষ দেখুন একটি মহাবানী
দু’জনের পারস্পরিক ভালোবাসার জন্য
বিবাহের চেয়ে উত্তম আর কোন সম্পর্ক নেই।
-হযরত মোহাম্মদ (সঃ)
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত (ইবনে মাজাহ-১৮৪৭)
(সাংবাদিক ও লেখক)
ই-মেইল : [email protected]
পিএনএস/ মো.সাইফুল্লাহ/মানসুর
কে সেই যে পুরুষের গার্ল ফ্রেন্ড?
23-02-2016 02:38PM

