কোরআনে বর্ণিত তালুত ও জালুতের ঘটনা

  23-04-2026 07:28PM

পিএনএস ডেস্ক: মানব ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে, যা শুধু গল্প নয়—বরং ঈমান, ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর অটল ভরসার জীবন্ত দৃষ্টান্ত। তালুত (আ.) ও জালুতের যুদ্ধ তারই উদাহরণ, যা পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারায় অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহীভাবে বর্ণিত হয়েছে। মূলত বনি ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে শত্রুদের অত্যাচারে জর্জরিত ছিল। তারা তাদের নবীর কাছে এমন একজন বাদশাহ বা নেতা চাইল, যার নেতৃত্বে তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে করবে।

আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য তালুতকে নেতা হিসেবে মনোনীত করলেন। কিন্তু তারা আপত্তি জানাল—কারণ তালুত ধনী ছিলেন না। তখন তাদের নবী বললেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে তোমাদের উপর মনোনীত করেছেন এবং তাকে জ্ঞান ও দেহে প্রাচুর্য দান করেছেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৪৭)

এই আয়াত আমাদের শেখায়, নেতৃত্বের মূল ভিত্তি ধন-সম্পদ নয়, বরং যোগ্যতা, জ্ঞান ও আল্লাহপ্রদত্ত সক্ষমতা।

কোরআনের ভাষায় তারপরের ঘটনা হলো, ‘অতঃপর যখন তালুত সৈন্যবাহিনী নিয়ে বের হল, তখন সে বলল, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে একটি নদী দ্বারা পরীক্ষা করবেন। অতএব, যে তা থেকে পান করবে, সে আমার দলভুক্ত নয়। আর যে তা খাবে না, তাহলে নিশ্চয় সে আমার দলভুক্ত। তবে যে তার হাত দিয়ে এক আজলা পরিমাণ খাবে, সে ছাড়া; কিন্তু তাদের মধ্য থেকে স্বল্পসংখ্যক ছাড়া তা থেকে তারা পান করল।

তারপর যখন সে ও তার সাথি মুমিনরা তা অতিক্রম করল, তারা বলল, ‘আজ আমাদের জালুত ও তার সৈন্যবাহিনীর সাথে লড়াই করার ক্ষমতা নেই’। যারা দৃঢ় ধারণা রাখত যে, তারা আল্লাহর সাথে মিলিত হবে, তারা বলল, ‘কত ছোট দল আল্লাহর হুকুমে বড় দলকে পরাজিত করেছে’! আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৪৯)

এটাই ঈমানের শক্তি—যেখানে সংখ্যা নয়, বরং বিশ্বাসই বিজয়ের মূল চাবিকাঠি। যুদ্ধের ময়দানে তালুতের বাহিনী আল্লাহর কাছে বিনম্রভাবে দোয়া করল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন, আমাদের পদসমূহ সুদৃঢ় রাখুন এবং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।’(সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫০)

এই দোয়া প্রতিটি মুমিনের জন্য এক অনন্য শিক্ষা—বিপদের সময় আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইতে হয়।

শেষ পর্যন্ত আল্লাহর সাহায্যে মুমিনদের দল বিজয় লাভ করে। এই যুদ্ধে তরুণ তালুত যিনি (দাউদ (আ.) নামে প্রসিদ্ধ) জালুতকে হত্যা করেন। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর তারা আল্লাহর হুকুমে তাদের পরাজিত করল এবং দাউদ জালুতকে হত্যা করলেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫১)

এভাবে আল্লাহ তাআলা দাউদ (আ.)-কে রাজত্ব ও প্রজ্ঞা দান করেন এবং মুমিনদের দান করেন মহা বিজয়। এই কাহিনী শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং আমাদের জন্য গভীর শিক্ষা বহন করে। তা হলো—যোগ্যতা ও ঈমানই নেতৃত্বের আসল ভিত্তি, ধৈর্য ও আত্মসংযম ছাড়া বিজয় সম্ভব নয়, অল্প হলেও সত্যের পথে থাকা মানুষরাই সফল হয় এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে অসম্ভবও সম্ভব হয়ে উঠে।

তাই জীবনের প্রতিটি সংগ্রামে সংখ্যার প্রাচুর্য নয়, বরং ঈমান, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাসই যেন হয় মুমিনের প্রকৃত শক্তি। কেননা যখন মানুষ নিজেকে আল্লাহর হাতে সমর্পণ করে, তখন ক্ষুদ্র শক্তিও বিশাল বিজয়ে পরিণত হয়।


পিএনএস/এএ


@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন