পিএনএস ডেস্ক: বিস্ময়কর মহাবিশ্ব। জ্যোতির্বিদ ও পদার্থবিদরা অনুমান করছেন, নেপচুন ও ইউরেনাসে হীরা বৃষ্টি হয়। এই গ্রহগুলোকে বলা হয় সৌরজগতের ‘দৈত্যাকার বরফ’। যেসব হালকা বস্তু হাইড্রোজেন ধারণ করে, তাদের বরফ বলে। নেপচুন ও ইউরেনাসের বাইরের স্তর হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম দিয়ে গঠিত। পানি, অ্যামোনিয়া এবং মিথেন গ্রহের উপাদান। প্রত্যেকটিই হাইড্রোজেন ধারক, যা গ্রহগুলোকে বরফপূর্ণ করে। নেপচুনে ৩,০০০ কিলোমিটার পুরু হাইড্রোজেন-হিলিয়াম স্তরের তলদেশে একটি ১৭,৫০০ কিলোমিটার পুরু বরফ স্তর রয়েছে।
ধারণা করা হয়, অভিকর্ষজ ত্বরণ বরফকে সংকুচিত করে ঘনত্ব এবং অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। এ ছাড়া বায়ুমণ্ডলীয় চাপের ১ মিলিয়ন গুণ বেশি উচ্চচাপ বরফকে সংকুচিত করে উত্তপ্ত তরলে পরিণত করে। এভাবে এসব গ্রহে মিথেনে কার্বন ও হাইড্রোজেন পরমাণুগুলো উচ্চচাপ ও তাপমাত্রায় পৃথক হয়ে যায়। এরপর কার্বন পরমাণুগুলোর গুচ্ছ, হীরার গঠনে পরিণত হয় যা কার্বনের স্থিত গঠন। কিন্তু হীরা বৃষ্টি কীভাবে হয়?
ধারণা করা হচ্ছে, ঘনত্ব বেশি হওয়ায় এসব হীরার খণ্ড গ্যাস স্তরে নিমজ্জিত হয়ে হীরা বৃষ্টি হয়। কিন্তু কোনো প্রযুক্তি দ্বারা নেপচুন ও ইউরেনাসের এ দৃশ্য পর্যবেক্ষণ অসম্ভব। হীরা বৃষ্টির কারণে নেপচুনে অতি মাত্রায় অভিকর্ষজ বল সৃষ্টি হয়, যা উচ্চ তাপে পরিণত হয়। শক্তির এ উৎসের কারণে সম্ভবত গ্রহটির পৃষ্ঠে শক্তিশালী ঝড় হয়। অন্যদিকে নেপচুন ও ইউরেনাসের চৌম্বকক্ষেত্র পৃথিবীর মতো প্রতিসম নয় এবং মেরু থেকে বিস্তৃত হয় না। মানুষ নিজ চক্ষে কবে দেখবে এ দৃশ্য কেউ বলতে পারে না। কারণ ইউরেনাস এবং নেপচুন পৃথিবী থেকে যথাক্রমে গড়ে ২.৭ বিলিয়ন এবং ২.৮ বিলিয়ন মাইল দূরে।
পিএনএস/রাআ
ভিনগ্রহে হীরা বৃষ্টি
06-04-2026 12:46AM

