পিএনএস ডেস্ক : কুমির ধরতে হেলিকপ্টারে অভিযান! শুনলে মনে হতে পারে, মশা মারতে কামান দাগা! সম্প্রতি এমনই এক বিস্ময়কর অভিযান চালিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এক পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু, কুমির ধরতে কেন এত আয়োজন?
সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্যার পানিতে একজন ব্যবসায়ী (হোটেল মালিক) নিখোঁজ হন। সেই ব্যবসায়ীকে খুঁজতে পুলিশ কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন জোহান পটগিটার এক দুঃসাহসিক অভিযান চালান। কুমিরে ভরা নদীর মাঝখানে হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নেমে, প্রায় ৫০০ কেজি ওজনের একটি বিশাল কুমিরকে বেঁধে ফেলেন তিনি।
কয়েকদিন আগে স্থানীয় একটি নিচু সেতু দিয়ে গাড়ি পার হওয়ার সময় হঠাৎ বন্যার স্রোতে হোটেল মালিক বাতিস্তার ফোর্ড রেঞ্জার গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাথরে উঠে যায়। সেখান থেকে নেমে নিরাপদে যাওয়ার চেষ্টা করলে, স্রোতে ভেসে যান তিনি। পরে কোমাতি নদীর দিকে ভেসে যান, যেখানে প্রচুর কুমিরের বসবাস।
ড্রোন ও হেলিকপ্টারের সহায়তায় নদীতে তল্লাশি চালানোর সময় একটি দ্বীপে প্রায় সাড়ে চার মিটার দীর্ঘ ও ৫০০ কেজি ওজনের একটি কুমির শনাক্ত করেন পুলিশ। কুমিরটি তখন স্থিরভাবে রোদে শুয়ে ছিলো এবং পেট অস্বাভাবিকরকম ফুলে ছিলো। তা থেকে তারা অনুমান করেন, এটি সম্প্রতি বড় কিছু শিকার করেছে।
এরপর কুমিরটিকে স্নাইপারের এক গুলিতে হত্যা করা হয়। হত্যার পর চালানো হয় হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার অভিযান। আগে হত্যা করা হলেও, এই অভিযানটি দুঃসাহসিক ছিলো। কারণ, যে নদীতে অভিযান চালানো হয়, সেই নদী ভরা ছিলো আরও অনেক কুমির। যেকোনো সময় অন্য কুমিরদের দ্বারা তিনি আক্রান্ত হতে পারতেন। তাই এটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো। তবু, সাহসিকতার সাথে ক্যাপ্টেন জোহান পটগিটার চলন্ত হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে নিচে নেমে কুমিরটিকে হারনেসে শক্তভাবে বেঁধে ফেলেন। পটগিটার বলেন, ‘এটি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক অভিজ্ঞতা।’
কুমিরসহ পুলিশ সদস্যকে নিরাপদে নদী থেকে তুলে আনা হলে, পরবর্তীতে কুমিরটির পেট পরীক্ষা করা হয়। তাতে বিচ্ছিন্ন দুটি হাত, পাঁজরের অংশ এবং বুকের মাংস পাওয়া যায়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, দেহাবশেষগুলো ৫৯ বছর বয়সী হোটেল মালিক গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তার।
আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, তদন্তকারীরা কুমিরটির পেট থেকে বিভিন্ন ধরনের জুতা-ফ্লিপ-ফ্লপ, স্যান্ডেল, নাইকি স্নিকার্স ও হাই হিল উদ্ধার করেন। তবে, এগুলোর কোনোটিই বাতিস্তার ছিল না। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কুমিরটি আগে আরও অনেক মানুষকে শিকার করে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘কুমির প্লাস্টিক হজম করতে পারে না, তাই এসব জুতা অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুলেং ডিম্পানে ক্যাপ্টেন জোহান পটগিটারের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘এ ধরনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা দায়িত্বের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো। এটি তার অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয়।’
পিএনএস /এএ
দড়ি বেয়ে নেমে বিশাল কুমির নিয়ন্ত্রণে আনলেন পুলিশ কর্মকর্তা!
06-05-2026 06:41PM

