পিএনএস ডেস্ক: ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বাসস লিখেছে, এ সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘন করায় এই ব্যাখ্যা চেয়ে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালকের তরফে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নোটিস জারির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে (৭ জুন বিকেল ৪টার মধ্যে) হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিনকে জবাব দিতে বলেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
কোরবানির ঈদের আগের দিন ভোরের দিকে রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে একে একে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলার’ প্রমাণ পাওয়ার কথা বলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কমিটির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি; দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা; বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।
এরমধ্যে অধিদপ্তরের তরফে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এই নোটিস দেওয়া হল।
নোটিসে বলা হয়, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সোমবার গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্তকালে হাসপাতালের মহাপরিচালক, সহকারী পরিচালক, শিশু বিভাগের প্রধান, এনআইসিইউতে কর্মরত চিকিৎসক, ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত নার্স, আয়া এবং রোগী ও রোগীর অ্যাটেনডেন্টসহ মৃত নবজাতকদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য গ্রহণ করে।
তদন্তে উঠে এসেছে, হাসপাতালটি পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ এর বিধানগুলো যথাযথভাবে পালিত না হওয়ায় এ শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় নিরূপণ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আদ-দ্বীন হাসপাতালটি ওই অধ্যাদেশের ৮ ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলায় বিধান অনুযায়ী কেন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তার যৌক্তিক কারণ আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে বা লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
পিএনএস/এমএইউ
৬ শিশুর মৃত্যু: আদ-দ্বীনের লাইসেন্স কেন বাতিল হবে না, জানতে চায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
05-06-2026 10:58AM

