পিএনএস ডেস্ক: সারা গায়ে র্যাশ শুকিয়ে কালচে দানা দানা ভাব, মুখের খসখসে ফুসকুড়িও এখনো শুকায়নি। এ অবস্থাতেই গায়ে তোয়ালে জড়িয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে দেড় বছরের শিশু সাইদুর রহমান; তবে নড়াচড়ার শক্তি নেই, মুখে যন্ত্রণার ছাপ।
রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতপাল ও ইনস্টিটিউটে গত চার দিন ধরে ভর্তি সাইদুরের পাশে আছে তার বাবা মো. শাহানুর এবং মা সফিনা বেগম। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে কথা হয় তাদের সঙ্গে।
সে সময় তারা বলেন, গত চারদিনে ছেলের চিকিৎসার পেছনে ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ করে ফেলেছেন। আর খরচের সাধ্য তাদের নেই। তাই এ অবস্থাতেই তারা ছেলেকে বাড়ি নিয়ে যেতে চান।
অথচ সদ্য আইসিইউ থেকে বের হওয়া সাইদুরকে আরো অন্তত এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হবে বলে বাবা-মাকে বলেছেন চিকিৎসকরা।
শাহনুর ও সাফিনা দম্পতির বাড়ি সিলেটে। ছেলের অবস্থা দেখাতে দেখাতেই মো. শাহানুর বলেন, “চাইর দিনে ৫০ হাজার টেহার (টাকা) বেশি খরচ হইছে। অহন আর ট্যাকা-পয়সা নাই। তাই হাসপাতালের সিট কাইট্টা পোলারে বাড়ি নিয়া যাইতাম চাই।”
তিনি বলছিলেন, মাছ বিক্রির আয় দিয়ে কোনো রকমে তার সংসার চলে। ছেলে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে মাছ বিক্রি বন্ধ। গত কয়েক বছরের যা সঞ্চয় ছিল সেটা শেষ হয়েছে। নতুন করে ধার নিয়ে ছেলের চিকিৎসা চলছে। তবে এভাবে আর সম্ভব নয়।
সাইদুরের শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে সফিনা বেগম বলেন, দশ দিন আগে ছেলের অনেক জ্বর আসে। তারা প্রথম কয়েক দিন দেখার পর ওকে সিলেট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানের ডাক্তাররা ঢাকায় আসার পরামর্শ দেন। চারদিন আগে শিশু হাসপাতালে আসার পরই আইসিইউতে ভর্তি করে নেওয়া হয়।
সেখানে দুদিন রাখার পর সাইদুরকে ওয়ার্ডে পাঠায়। এখন তার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। তবে ছেলেটির আরেকটা সমস্যা আছে, তার হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ধরা পড়েছে। তবে হামের অসুস্থতা ভালো হওয়ার আগে সেটার কিছু করা যাবে না।
সফিনা বেগম বলেন, “হার্টের অপারেশন করতে এক লাখ টাকার বেশি লাগবে। এত টাকা জোগাড়, আমাদের বাড়ি বিক্রি ছাড়া সম্ভব নয়। তাই এখন কিছু করতে পারব না। বাড়ি যাব, তারপর হাম ভালো হলে দেখা যাক কী করা যায়।’’
শাহানুর বলেন, গত চার দিনের মধ্যে দুই দিন ছেলেকে আইসিইউ রাখতে হয়। সেখানে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে। ওষুধপত্র, ভাড়া সব মিলিয়ে ঢাকায় ৫০ হাজারের বেশি খরচ হয়েছে। এসব টাকার বেশিরভাগ ধার করা।
“আমার দুইটা ছেলে। বড় ছেলের বয়স প্রায় ১৮, সে প্রতিবন্ধী। সে কিছু করতে পারে না, আমাদেরই তার পিছনে অনেক খরচ করতে হয়।”
এদিকে চিকিৎসা শেষ না করেই সাইদুরকে বাড়ি নিয়ে যেতে তার বাবা-মায়ের উদ্যোগের কথা জেনে শিশুটিকে পেয়িং বেড থেকে ফ্রি বেডে স্থানান্তর করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাই আপাতত সাইদুরকে হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা করাবেন বলেছেন তার বাবা।
ছোট্ট সাইদুরের হার্টের অস্ত্রপচারের বিষয়ে ওয়ার্ডে অবস্থানরত হাসপাতালে জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. পলাশ বলেন, “এই বাচ্চার হার্টের সমস্যা রয়েছে; সেটির অপারেশন করতে এক থেকে দেড় লাখ টাকার মতো খরচ হবে। তবে সেটি এখন করা সম্ভব নয়। হামের অবস্থা থেকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর সেটি করা যেতে পারে।”
শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, “চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগে কোনো রোগী চলে যাবে, এমন আমরা চাই না। আমরা সমাজ কল্যাণের মাধ্যমে এবং ব্যক্তিগতভাবেও অনেককে চিকিৎসকরা সহযোগিতা করেন। সর্বপরি সব রোগীদের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করি।
“অনেক রোগীদের ফ্রি বেডে জায়গা করে দেওয়া হয়। সেখানে খাবারসহ অনেক কিছু বিনামূল্যে দেওয়া হয়।”
পিএনএস/এমএইউ
‘ট্যাকা নাই, হাসপাতালের সিট কাইট্টা পোলারে বাড়ি নিয়া যাইতাম চাই’
05-06-2026 10:52AM

