গাজায় কবরস্থান গুঁড়িয়ে সামরিক ঘাঁটি বানাচ্ছে ইসরায়েল

  05-06-2026 12:21PM


পিএনএস ডেস্ক: ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে গত বছরের অক্টোবরে স্বাক্ষর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের কথা থাকলেও, চুক্তি লঙ্ঘন করে অবরুদ্ধ এ ভূখণ্ডে গোপনে স্থায়ী ও ভারী সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটি তৈরি করছে ইসরায়েল।

আলজাজিরার ওপেন সোর্স ইউনিটের এক অনুসন্ধানে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর ৪০টি সুনির্দিষ্ট সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। স্যাটেলাইট ডাটা বিশ্লেষণ করে পাওয়া এ তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সম্পূর্ণ নতুনভাবে আটটি ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে এবং একটির নির্মাণকাজ এখনো চলমান রয়েছে।

এ অনুসন্ধানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, গাজার খান ইউনিসের একটি কবরস্থান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়ে সরাসরি তার ধ্বংসাবশেষের ওপর একটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

উপগ্রহ চিত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরের দিকে এ কবরস্থানে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ শুরু হয় এবং ২০২৬ সালের ১৮ মে নাগাদ এটি যানবাহন রাখার এলাকা এবং সৈন্যদের আবাসন ও বৈঠকের জন্য উপযোগী কাঠামোসহ পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে ওঠে। একই চিত্র দেখা গেছে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়াতেও, যেখানে ২০২৫ সালের অক্টোবরে সম্পূর্ণ খালি থাকা জায়গায় মে ২০২৬ সালের মধ্যে একটি ঘেরা সামরিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। নবনির্মিত এ ঘাঁটিগুলো কৌশলগতভাবে উত্তর গাজায় দুটি, মধ্য অঞ্চলে দুটি, নেৎজারিম করিডোরের পূর্বে একটি এবং খান ইউনিসে তিনটি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী ‘ইয়েলো লাইন’ বা ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পুরোনো ঘাঁটিগুলোর পরিধি বাড়াচ্ছে। যেমন গাজা সিটির পূর্বের একটি ঘাঁটির আয়তন ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং মধ্য গাজায় ঘাঁটির চারপাশে গভীর প্রতিরক্ষামূলক পরিখা খনন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন মধ্যস্থতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২১ দফার শান্তি পরিকল্পনার যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে তোয়াক্কা না করে এ ঘেরাওয়ের রাজনীতি ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন চলাচলের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।

ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ আকরাবাউই সতর্ক করে বলেছেন, নেতানিয়াহু এই স্থায়ী অবকাঠামো এবং জনবসতি ঘেরাও করার মাধ্যমে আবারও একটি নিধন যুদ্ধ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১৯ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।


পিএনএস/এমএইউ

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন