পিএনএস, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বামনী নদীতে ক্লোজার বাঁধের নির্মাণকাজ এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে এসেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল) বাঁধটির মূল কাঠামো দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই বাঁধ স্থায়ী হলে আশপাশের দুই উপজেলার প্রায় ৯ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাস্তবায়নাধীন 'নোয়াখালী জেলার বামনী নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন' প্রকল্পের আওতায় এই বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের লক্ষ্য কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার জলাবদ্ধতা দূর করা, লবণাক্ত পানির প্রবেশ রোধ, মিঠাপানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন সম্প্রসারণ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে অতিবৃষ্টির কারণে জেলায় বারবার বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ সালে বন্যা-পরবর্তী তিন থেকে চার মাস জলাবদ্ধতায় ভুগতে হয় জেলার বিভিন্ন এলাকাকে। বামনী নদীতে ১৯-ভেন্ট রেগুলেটর নির্মাণ শেষ হলেও ক্লোজার বাঁধ না থাকায় জোয়ার-ভাটার প্রভাব অব্যাহত থাকে। এর ফলে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ, উচ্চ জোয়ারে ঘরবাড়ি ও সড়ক প্লাবিত হওয়া এবং কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো সমস্যা চলতে থাকে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নোয়াখালী খালের রিকশাওয়ালা মোড় এলাকায় আলগী খালে একটি অস্থায়ী মাটির আড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। তাতে সমস্যা কিছুটা কমলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এই প্রেক্ষাপটেই বর্তমান প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।
প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বামনী ক্লোজার বাঁধের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১৫ মিটার এবং গভীরতা প্রায় ১০ মিটার। এই বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন হলে কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ৯ লাখ মানুষ সুবিধা পাবেন এবং প্রায় ২৮০ কোটি টাকার সম্পদ সুরক্ষিত হবে।
চলতি বছরের ১০ মার্চ পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু যৌথভাবে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর থেকে পিডিএল ও পাউবো দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পের সামগ্রিক কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এই নির্মাণকাজে আরএফএল জিও টেক্সটাইল জিও টিউব, জিওব্যাগ ও জিও টেক্সটাইল শিট সরবরাহ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রেফাত জামিল বলেন, নকশা অনুযায়ী এই কাজ ফেব্রুয়ারিতে করার কথা থাকলেও জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে মে-জুন মাসে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পিডিএলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র জোয়ার-ভাটার মধ্যেও মাত্র তিন মাসে ক্লোজার বাঁধের মূল নির্মাণকাজ এই পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে।
পিএনএস/এএ
দৃশ্যমান ‘বামনী ক্লোজার’, উপকৃত হবেন ৯ লাখ মানুষ
11-06-2026 01:54AM

