পিএনএস, বগুড়া প্রতিনিধি : কৌশল বদলে নতুনরূপে মাঠে নেমেছে অজ্ঞান পার্টি। এবার প্রকাশ্যে এসেছে বাইক (মোটরসাইকেল) ফাঁদ। বগুড়ায় মহাসড়কের মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও শহরে বাইক চালকের ছদ্মবেশে ঘুরছে অপরাধীরা। টার্গেট করে সাধারণ মানুষের টাকা, মোবাইলসহ সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। অনিরাপদ হয়ে উঠছে ভাড়ার মোটরসাইকেল। অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে নতুন ফাঁদের তথ্য জানিয়েছে র্যাব।
আজ বুধবার বগুড়া শহরতলীর মাটিডালি রাজা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরআগে, মঙ্গলবার শহরের সাতমাথা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয় আরও একজন। পাওয়া গেছে চেতনানাশক ঔষধের সংমিশ্রনে তৈরি উপকরণ। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন র্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ এটিসি। উদ্বেগ বা শঙ্কা নয়, অজ্ঞান পার্টির খপ্পর এড়াতে যাত্রীদের সচেতন ও সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিয়েছে র্যাব।
মামলার বরাত দিয়ে জানানো হয়, গত ২৬ মার্চ বগুড়া শহরতলীর শাজাহানপুর উপজেলার শাকপালা মহাসড়কের মোড়ে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন ঠিকাদার সবুজ হাওলাদার। তিনি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মহেন্দ্রদী মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ঘটনার দিন দিনাজপুর থেকে টাকা নিয়ে শাকপালা মোড়ে যান। বাসস্ট্যান্ডে মাদারীপুরের বাস না পেয়ে কুষ্টিয়া যাওয়ার জন্য ভাড়া চুক্তিতে বাইকে ওঠেন। অসাবধানতায় তাড়াহুড়ো করে অজ্ঞান পার্টির ফাঁদে পা দেন। চালক কৌশলে আরও একজনকে তুলে নেয়। বাইপাস সড়কের কথা বলে শেরপুর-তাড়াশ পথে রওনা দেয়। ঠিকাদার জানতেন না, বাইকে থাকা দুই ব্যক্তি অজ্ঞান পার্টির সদস্য। পথিমধ্যে একটি বাজারে বাইক থামিয়ে দোকান থেকে কমলা ও খেজুর কিনে খায় যাত্রী, চালকসহ তিনজন। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার গ্রামীণ সড়কে অচেতন হন ঠিকাদার। তাকে রাস্তার পাশে ফেলে নগদ দুই লাখ টাকা, আইফোনসহ দুটি মোবাইল এবং মালামাল লুট করা হয়। এ ঘটনায় ১০ এপ্রিল তাড়াশ থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার।
ঘটনার তদন্তে নামে র্যাব-১২ বগুড়ার সদস্যরা। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্য শনাক্ত হয়। তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পৃথক অভিযান চালায় র্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা- বগুড়া শহরের হাড্ডিপট্টি মহল্লার হাজী শাহীন আলমের ছেলে মেহেদী হাসান সৌরভ (২০) ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ধুনদিয়া হরিরামপুর এলাকার হায়দার আলীর ছেলে উজাম মিয়া (৩৪)। তাদেরকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অজ্ঞান পার্টির বাইক ফাঁদ প্রকাশ্য হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যাত্রী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, তাড়াহুড়ো করে অসাবধানতায় যাত্রীরা বিপদে পড়েন। অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। অপরাধীরা কৌশল বদলায়, যাত্রীদেরও কৌশলী হতে হবে। চালক বা অপরিচিত কারও দেওয়া কোন ধরনের খাবার, পানি, জুস খাওয়া যাবে না। সন্ধ্যা-রাতে একা চলাচলের সময় সতর্ক থাকতে হবে। সবার আগে প্রয়োজন জনসচেতনতা। মাইক্রোবাস, বাইক, ইজিবাইক বা সিএনজিতে ওঠার আগে চালকের মোবাইল নম্বরে কল দিতে হবে। এক মিনিট কথা বলে তারপর গন্তব্যে রওনা। যেন পরবর্তীতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে চালককে শনাক্ত করা যায়।
পিএনএস/এএ
অচেতন করে সর্বস্ব লুট, বগুড়ায় গ্রেপ্তার ২
17-06-2026 07:00PM

